ঢাকা: রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩,৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দলটির শীর্ষ নেতা, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং সাধারণ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও সহিংসতার অভিযোগে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে বিএনপি এবং জামাতের মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নয়।
অথচ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ ভুয়া মামলা দেয়া হয়েছে। তাঁদের কারাগারে নেয়া হয়েছে। এমনকি কারাগারে নির্যাতনে বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছেন নেতা কর্মী। এগুলোর কোনো হিসাব নেই।
আওয়ামী লীগের দাবি অনুযায়ী, তাদের লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কয়েক লাখ মামলা করা হয়েছে।
মামলাগুলোতে প্রধানত হত্যা (বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান), গুম, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অভিযোগ আনা হয়েছে। যা সব ভুয়া।
অথচ এগুলোর কোনো বিচার নেই।
আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩,৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এছাড়া যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনের সভাপতি করেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয় এবং এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।’
তবে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১,৪২,৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ৫ মার্চ রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে।
মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্র, এজাহার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চার্জশিটের সার্টিফাইড কপি এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে, জনস্বার্থে মামলা চালানোর প্রয়োজনীয়তা নেই এবং মামলা চালালে রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে মর্মে পরিলক্ষিত হলে উক্ত কমিটি মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, ‘জেলা কমিটির কাছ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য সরকার গত ৮ মার্চ আইন মন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে। এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মোট ২৩, ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
