সুনামগঞ্জ: হাওরে কৃষকের সোনার ধান তলিয়ে যাচ্ছে। মাথায় হাত দিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
শুধু তাই না, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে অকাল বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কাটা ধান নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
মাঠ থেকে তুলে আনা ধান গাদাকরে রাখার পরও রক্ষা হয়নি—অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং টানা বৃষ্টির ফলে সেই ধানের মধ্যে বীজ গজাতে শুরু করেছে। মহা বিপদ কৃষকদের।
রোদ না পাওয়ায় সেগুলো শুকাতে পারেননি তাঁরা। এতে ধানের মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাচ্ছে।
এক কৃষক বলেন, “সারাবছরের পরিশ্রমে যে ধান পেলাম, সেটাও এখন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গরুর খাদ্য হিসেবেও ঠিকমতো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।”
হাওরে ফসল ডুবে যাওয়ায় সুনামগঞ্জের কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন বর্গাচাষীরা। তারা কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না।
চুক্তি অনুযায়ী মালিককে ধান দেওয়া, আবাদের জন্য নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করা, সারা বছর সংসার নিয়ে বেঁচে থাকার চিন্তায় পড়েছেন তারা।
হাওরজুড়ে এমন বিপর্যয় দেখা দিলেও কৃষি বিভাগ বলছে, ৫০ হাজার টন ধানের ক্ষতি হয়েছে।
দেখা যায়, হাওরের গুয়াছুড়া এলাকায় তীব্র বাতাসের মধ্যে কোমর সমান পানিতে ধান কাটছেন শ্রমিকরা।
হাওরে এমন অবস্থায় কৃষি বিভাগ বলছে, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ৯ হাজার ৪৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতি হয়েছে। এই হিসেবে ৫০ হাজার টন ধানে ক্ষতি ২০০ কোটি টাকারও কম।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, উজানের পানিতে নদীর পানি বেড়েছে। হাওরের এই পানি কমতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
