ঢাকা: আজ ১ মে উদযাপিত হবে বুদ্ধপূর্ণিমা। এই উদযাপন ঘিরে প্রস্তুতি সম্পন্ন দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের।

তাদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবটি দেশে শতাব্দীব্যাপী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বুদ্ধ পূর্ণিমা শুধু একটি তিথি নয়, এটি শান্তি, করুণা, জ্ঞান ও আত্মশুদ্ধির মহাপবিত্র দিন।
এই শুভ পূর্ণিমায় ভগবান বুদ্ধের আশীর্বাদে সকলের জীবন ভরে উঠুক শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও ইতিবাচক আলোয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে- ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।

বাংলা বছরের প্রথম মাসের প্রথম পূর্ণিমা বা ‘বৈশাখী পূর্ণিমা’তে গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। জাতিসংঘ ২০০০ সালে এ দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক বেসাক দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

এই দিনটির তাৎপর্য তিনটি কারণে অনন্য, কারণ গৌতম বুদ্ধের জীবনের তিনটি প্রধান ঘটনা একই তিথিতে ঘটেছিল। একে ত্রিস্মৃতি বিজড়িত পূর্ণিমা বলা হয়।

খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দে বৈশাখী পূর্ণিমায় নেপালের লুম্বিনী উদ্যানে রাজা শুদ্ধোধন ও রানি মায়াদেবীর ঘরে সিদ্ধার্থ গৌতম জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পরই তিনি সাত কদম হেঁটে ঘোষণা করেছিলেন, “আমিই জ্যেষ্ঠ, আমিই শ্রেষ্ঠ। এটাই আমার শেষ জন্ম।”

২৯ বছর বয়সে সংসার ত্যাগ করে ছয় বছর কঠোর সাধনার পর ৩৫ বছর বয়সে বৈশাখী পূর্ণিমার রাতে ভারতের বুদ্ধগয়ায় বোধিবৃক্ষের নিচে তিনি বোধিজ্ঞান লাভ করেন।

দুঃখের কারণ, দুঃখ নিরোধের উপায় এবং নির্বাণের পথ আবিষ্কার করে তিনি বুদ্ধ অর্থাৎ জাগ্রত হন।

এবং দীর্ঘ ৪৫ বছর ধর্ম প্রচারের পর ৮০ বছর বয়সে বৈশাখী পূর্ণিমার রাতেই কুশীনগরে শালবৃক্ষের নিচে তিনি মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *