ঢাকা: ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার আমিনুর শাহকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আবারো বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা সুলতানা সুইটি তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাঝহারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।

তিনি তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন:

“আমিনুর শাহ! তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা হয়েছে। কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাঁকে।

রসুল নিয়ে, হাদিস নিয়ে, কোরান নিয়ে, ইসলাম নিয়ে যা কিছুই সত্য বলবে তুমি, তুমি ধর্ম ব্যবসায়ীদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেবে।

ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্ম নিয়ে মিথ্যে শুনতে চায়, সত্য শুনতে চায় না। অনুভূতিতে আঘাত? দিলে দিয়েছো।

কে এমন লাট সাহেব বসে আছে যে অনুভূতিতে আঘাত লাগা চলবে না!

অনুভূতি আঘাত লাগার জন্যই। রূপকথার চরিত্র আল্লাহর অনুভূতিতেও দিন রাত আঘাত লাগছে। আল্লাহকেও কোপ করতে হয়, তুমি কোন ছার”!

বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে তিনি নাকি কটূক্তি করেছেন! তাঁর জানাজা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন।

এই অভিযোগে করা মামলায় ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমিনুর শাহকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা সুলতানা সুইটির আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে আসামি আমিনুরকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক শাহ আলম। শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর ওই আদেশ দেন আদালত।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে আমিনুর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে তিনি মন্তব্য ও কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন।

ধর্মান্ধদের খায়েশ লাগে এতে এবং মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।

তবে ইউনূসের চুক্তির জন্য দেশে যদি শুকর আনতে হয় সেটা অবশ্য কোনো বিষয় না, ধর্মে আঘাত না।

মঙ্গলবার আমিনুর শাহর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করেন আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। এরপর নবাবগঞ্জের মহিষদিয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *