ঢাকা: ডিম নয় যেন মুক্তোর দানা। হালদা নদীতে রাত থেকে রুই জাতীয় মাছের নমুনা ডিম পাওয়া যাচ্ছে। ডিম আহরণকারীদের প্রস্তুতি চলছে নদীতে। অপেক্ষা এখন পর্যাপ্ত ডিম প্রাপ্তির।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র এই হালদা নদী। এখানেই নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। তবে নমুনা ডিম হলেও ডিমের সংখ্যাই অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন ডিম আহরণকারীরা।

বৃহস্পতিবার (৩০) এপ্রিল সকাল ৯টার পর থেকে হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মা মাছের ডিম পাওয়া যায়।

তবে এগুলো নমুনা ডিম বলে জানান রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম।

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীতে প্রতি বছর এপ্রিল মাস থেকে মা মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুম শুরু হয়।

এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত পূর্ণিমা ও অমাবস্যার তিথিতে মা মাছ নদীতে ডিম ছাড়ে। নদীর অনুকূল পরিবেশের উপর ডিম ছাড়া নির্ভর করে।

নমুনা ডিম হলো কার্প-জাতীয় মা মাছের প্রজনন মৌসুমে পুরোদমে ডিম ছাড়ার আগে প্রাথমিক পর্যায়ে নদীর পানিতে ছাড়া অল্প পরিমাণ নিষিক্ত ডিম।

আসলে মা মাছ পরিবেশ উপযুক্ত কি না, তা যাচাই করতেই এই ডিম ছাড়ে।

এই নমুনা ডিম ছাড়ার পরও যদি উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়া না যায় তাহলে মাছ আর ডিম ছাড়ে না।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নদীর আজিমের ঘাট, অঙ্কুরীঘোনা ও সত্তারঘাট এলাকায় এ ডিম ছাড়ার ঘটনা দেখা যায়।

হাটহাজারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শওকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমান আবহাওয়া ডিম ছাড়ার জন্য অত্যন্ত অনুকূল।

রাউজানে আজিমেরঘাট, কাগতিয়া, গড়দুয়ারা, হাটহাজারীর রামদাশ মুন্সির হাট, মাছুয়াঘোনা, নয়াহাট এলাকার কিছু অংশে নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ। ইতিমধ্যে অনেক সংগ্রাহক ২০০ গ্রাম থেকে শুরু করে ২ কেজি পর্যন্ত ডিম আহরণ করেছেন।

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং পানির ভালো মান—সব মিলিয়ে মা মাছের প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।তিনি আশা প্রকাশ করেন, সন্ধ্যা বা রাতে মা মাছ পূর্ণাঙ্গভাবে ডিম ছাড়তে পারে। আজকে হয়তো ভালো খবর পাওয়া যেতে পারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *