ঢাকা: নার্গিস মোহাম্মদিকে মনে আছে আপনাদের? এই নারী ইরানের নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য দাবী নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বছরের পর বছর কারাগারে আটক রয়েছেন।
ইরান সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হওয়া এই নারী সারা পৃথিবীর নারীর বিবেককে নাড়া দিয়েছে।
আজ এই প্রতিবাদী আত্মমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে সরকারের অমানবিক নির্যাতনকে মেনে নিয়ে কারাগারের অন্ধকার কক্ষে সোনালী দিনের জীবন যৌবন হারানোর পথে।
পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং ফিজিসিস্ট নার্গিস মহম্মদি। ২০১৮ সালে আন্দ্রেই শাখারোভ পুরস্কার (Andrei Sakharov Prize) পেয়েছিলেন তিনি।
ইরানের কারাবন্দি নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি অসুস্থ।
উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজধানী তেহরানের হাসপাতালে স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছে তাঁর পরিবার ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন। পরিবার তাঁকে নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত।
পরিবারের অভিযোগ, যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় নার্গিস মোহাম্মদির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।
গত মার্চে সম্ভাব্য হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার অবস্থা অবনতির দিকে যেতে থাকলে পরিবার বারবার উন্নত চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়ে আসছে।
পরে তাঁকে ইরানের জানজান শহরের একটি হাসপাতালে কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। তবে সেখানেও তিনি সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছে নার্গিস ফাউন্ডেশন।
নার্গিস মোহাম্মদির ভাই হামিদরেজা মোহাম্মদি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাদের কোনো সন্দেহ নেই তারা তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা এখন তাঁর জীবন বাঁচানোর জন্য লড়াই করছি।’
তিনি আরও জানান, জানজানের প্রসিকিউটররা তাঁকে অন্যত্র স্থানান্তরের অনুমতি দিচ্ছেন না এবং সিসিইউতেই রাখার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।
ফাউন্ডেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তার হার্টবিট ও রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু মূল সমস্যাগুলোর সমাধান হচ্ছে না। তাঁকে দ্রুত তেহরানে তাঁর নিজস্ব চিকিৎসকদের কাছে স্থানান্তর করতে হবে।’
বর্তমানে নার্গিসের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ ও বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। ষ
নারী অধিকারের জন্য সফলভাবে লড়াই করা মানবী নার্গিস।
নারীদের ওপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য তিনি ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
নার্গিসকে একজন ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বলে আখ্যায়িত করেছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।
ইরানের নিপীড়িত নারীদের হয়ে লড়াইয়ের জন্য এই মানবাধিকার কর্মীকে বেছে নেওয়া হয় ২০২৩-এর শান্তি পুরস্কারের জন্য। তিনি হলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজেতাদের মধ্যে ১৯তম।
এদিকে, ইরান সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও সমালোচনার অভিযোগে তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করা হয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এবং কারাগারে কষ্ট ভোগ করে চলেছেন।
