ঢাকা: আজ, ৩ মে পালিত বিশ্ব সংবাদপত্র স্বাধীনতা দিবস। দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় সত্য তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের নিরন্তর লড়াইয়ের কথা, নিরন্তর নির্যাতনের কথা।

সাংবাদিকদের নামে খুনের মিথ্যা মামলা, ১০ জনেরও বেশি সাংবাদিক মিথ্যা খুনের মামলায় জেলবন্দি, শত-শত সাংবাদিককে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুতি, সরকারের সূর্য সৈনিকদের হাতে শত-শত সাংবাদিক নির্যাতিত- এ সব বিষয়ে কেউ কোন কথা বলে না।

অথচ উপরে উপরে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সারাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ শতাধিক মামলা হয়েছে।

এসব মামলায় অর্ধশত সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে ১৩ জন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হারিয়েছেন।

এবং প্রায় ১২০০ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং ১৬৮ জনের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন প্রেস ক্লাবের সাত শতাধিক সাংবাদিকের সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্ধশতাধিক সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির অভিযোগ উঠেছে।

আইনি বাধা, বর্তমান সিস্টেম এবং পেশাগত ব্যর্থতার কারণে কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি হচ্ছে না।

৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব সংবাদপত্র স্বাধীনতা দিবস।

এই সেই দিন রোদে ঘামে ভিজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তুলে আনা মানুষের যন্ত্রণার কথা যারা তুলে আনে, যারা কলমে -ভাষায় সেই খবর মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় সেই অদৃশ্য লড়াইকে সম্মান জানানোর দিন ।

তবে একটি দিন সম্মান জানিয়ে ৩৬৪ দিন নির্যাতন করারও তো কোনো মানে নেই।

একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সংবাদমাধ্যমে কেবল খবর পরিবেশনই করে না, মানুষের চোখ-কান-কথা হিসাবে কাজ করে।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী রয়েছেন ফারজানা রূপাসহ কয়েকজন সাংবাদিক। বারবার আবেদন করেও তাঁরা জামিন পাচ্ছেন না।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জামিন পাওয়ার আশা দেখছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকেরা। তারপরেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট আটক করা হয়েছিল একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক-উপস্থাপক ফারজানা রুপাকে। তাঁরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।

পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ফজলুল করিম নামের একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

রাজধানীর আদাবরে পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলাতেও তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তাঁরা কারাগারে আছেন, এখনো জামিন পাননি। কেউ কোনো কথা বলে না।

এদিকে আটক হন একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং ভোরের কাগজ-এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত। জামিন নেই।

কথা বলতে গিয়ে যদি গ্রেপ্তার হন, চাকরিচ্যুত হন, তাহলে সাংবাদিকের স্বাধীনতা থাকলো কোথায়?

লেখা বা রিপোর্ট প্রকাশের আগেই আটকে দেওয়া, ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়।

সম্প্রতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে অত্যাচার করা হয়েছে। তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে।‌এই যদি হয় দেশে সাংবাদিকদের অবস্থা, তাঁদেরকে যদি প্রতি পদে পদে মার খেতে হয় – তাহলে সাংবাদিকের স্বাধীনতা থাকে কোথায়?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *