বরিশাল: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। মারা যাচ্ছে একের পর এক শিশু। তবে দায়িত্বশীল পর্যায়ে চলছে ইঁদুর-বিড়াল খেলা। দায় চাপানোর প্রবণতা চোখে পড়ার মতো।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) কোনো উদ্যোগ নেই। প্রতিদিন শিশু মারা যাচ্ছে।

হাসপাতালগুলোতে জায়গা নেই। নিচেই শিশু নিয়ে জীবনের যন্ত্রণা নিয়ে বসে আছে মায়েরা।

এদিকে, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে যারা মারা গেছে তাদের প্রায় ৯০ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতার কারণে।

অন্য যারা মারা গেছে, তাদের ৩৩ শতাংশ মেনিনগোএনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের আবরণীর প্রদাহ) এবং ২২ শতাংশের ক্ষেত্রে সেপটিসেমিয়ার (রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া) মতো জটিলতা দেখা গেছে। মারা যাওয়া শিশুদের অধিকাংশ টিকাবঞ্চিত ছিল।

রাজধানীর তিন হাসপাতালে হামে মারা যাওয়া শিশুদের তথ্য বিশ্লেষণে এই করুণ চিত্র উঠে এসেছে।

বাড়ছে শিশুদের নিউমোনিয়া রোগ। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জায়গা নেই।

জানা যাচ্ছে, একটি শয্যায় চারজন করে শিশু রাখা হয়েছে। যাদের কিছু টাকা আছে তাঁরা এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে শিশুকে সেই হাসপাতাল থেকে নিয়ে গিয়ে প্রাইভেট চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। তবে সবার পক্ষে তো সম্ভব না।

সেখানে বন্ধের দিন হওয়ায় একজন ইন্টার্নিকেও ঠিকমত পাওয়া যায়না। বিনা চিকিৎসায় শিশুরা মারা যাচ্ছে। একটি ওয়ার্ডে চারশর মত শিশু ভর্তি রয়েছে। পা ফেলারও জায়গা নেই। শিশুগুলো তো এমনিতেই আরো অসুস্থ হয়ে উঠছে।

শুক্রবার রাত ৮টায় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে। বারান্দায় সরু একটি হাঁটার পথ রয়েছে। দুই পাশে ফ্লোরে শিশু রোগীদের নিয়ে বসে আছেন বাবা-মায়েরা। কী করবেন? এত দুরবস্থা দেশের হাসপাতালগুলোর!

কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৭০টি শয্যা রয়েছে। সেখানে সকাল পর্যন্ত ভর্তি ছিল ৪৫০ জন। এর মধ্যে হামের উপসর্গ রয়েছে ১৭৫ জনের।

অপরদিকে হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে অনুমোদিত চিকিৎসকের সংখ্যা ২৪ জন হলেও আছেন মাত্র ১০ জন। এই অবস্থায় শিশুদের চিকিৎসা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কে কোনদিকে যাবেন দিশা নেই!

সরকার দেখুক এগুলোর দিকে! শিশুগুলোর প্রাণ বাঁচুক!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *