ঢাকা: শহীদ জননী জাহানারা ইমাম একজন
মহীয়সী নারী। অন্ধকারের ভিতর থেকেও যিনি সত্যের প্রদীপ জ্বালিয়ে একটি ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন—তিনিই জাহানারা ইমাম।

আজ, ৩ মে তাঁর জন্মদিন। বাংলাদেশ যতদিন আছে, আপনি জননী হয়েই থাকবেন জাহানারা। রাজাকাররা তাঁকে বলতো ‘জাহান্নামের ইমাম’। এখনো বলে।

কারণ এই জাহানারা ইমাম রাজাকার ও তাদের বিবি-বাচ্চাদের জীবন জাহান্নাম বানিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’। একাত্তরে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র শাফী ইমাম রুমী দেশের মুক্তিসংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন এবং কয়েকটি সফল গেরিলা অপারেশনের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন ও পরবর্তীতে নির্যাতনের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।

বিজয় লাভের পর রুমীর বন্ধুরা রুমীর মা জাহানারা ইমামকে সকল মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে বরণ করে নেন৷ রুমীর শহীদ হওয়ার সূত্রেই তিনি শহীদ জননীর মযার্দায় ভূষিত হন।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী আজ রবিবার (৩ মে)।

১৯২৯ সালের এই দিনে অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আজীবন সংগ্রাম করে যাওয়া এই অগ্রসেনানী ‘একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল আন্দোলন’-এর অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন।

রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম হলেও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পিতা আবদুল আলীর তত্ত্বাবধানে তিনি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছিলেন।

১৯৪৫ সালে কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ করেন।

১৯৯২ সালে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী ও তরুণ সমাজের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে ঐতিহাসিক গণ-আদালত।

তৎকালীন সরকারের করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাসহ নানা প্রতিকূলতা এবং মরণব্যাধি ক্যানসারকে উপেক্ষা করেও তিনি আন্দোলন চালিয়ে যান।

শেষ পর্যন্ত ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই মহীয়সী নারীর মৃত্যু হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *