ঢাকা: বাংলাদেশ দাসত্বের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ইউনূস বাংলাদেশকে দাস বানিয়ে গিয়েছেন আমেরিকার কাছে।

৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে।

এই চুক্তির ফলে কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প, শ্রমবাজার এবং জাতীয় নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

৩২ পৃষ্ঠার চুক্তিটি বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে সীমিত করেছে।

মানুষ খারাপ হয়, কিন্তু ইউনূসের মতো খারাপ হয় না। বড় প্রতারকরাও এতটা বড় প্রতারক হয় না। এই লোকটির কোনো দেশপ্রেম নেই, আছে শুধু দেশের প্রতি ঘৃণা। ঘৃণা ছাড়া কেউ দেশকে এতটা পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারত না।

২০২৬ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিটি প্রকৃতপক্ষে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দ্বারা চুক্তি স্বাক্ষর গণতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চুক্তিটিতে ১৩১ বার “বাংলাদেশ করবে” এই বাক্যাংশটি রয়েছে, যা একটি একতরফা অঙ্গীকারের ইঙ্গিত দেয়।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি) সই হয়েছে গত ৯ ফেব্রুয়ারি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর যেরকম একতরফাভাবে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুই করতে হবে না।

কোনো আইনে বা চুক্তিতে ইংরেজি ‘শ্যাল’ কথা থাকা অর্থ হচ্ছে এসব বিষয় পালন করা বাধ্যতামূলক।

আর যদি ‘উইল’ লেখা থাকে সেটা হবে ইচ্ছাধীন বিষয়।

৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তিতে শ্যাল কথাটি আছে মোট ১৭৯ বার, উইল ৩ বার। এর মধ্যে ‘বাংলাদেশ শ্যাল’ এসেছে ১৩১ বার, আর ‘ইউএস শ্যাল’ আছে মাত্র ৬ বার। এই চুক্তি নিয়ে দেশে নানা ধরনের সমালোচনা হচ্ছে।
মূল চুক্তিতে ৬টি ধারা রয়েছে।

চুক্তির প্রথম ধারার বিষয় হচ্ছে শুল্ক ও কোটা।

এই বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর নির্ধারিত শুল্ক বসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কোটা দেবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশের পণ্যের ওপর নির্ধারিত হারে শুল্ক বসাবে।

অশুল্ক বাধা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে ধারায় ১১টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। এর মূল কথা হলো মার্কিন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড়াও এমন কোনো নিয়ম, কাগজপত্র, অনুমতি, পরীক্ষা, মান যাচাই বা লাইসেন্স আরোপের মতো নিয়ম করা যাবে না, যা বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করবে।

চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের জন্য বাংলাদেশি বাজারে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা আছে।

তবে স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার কারণে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে তা বিজ্ঞানভিত্তিক ও ঝুঁকিভিত্তিক হতে হবে, শুধু বাণিজ্য ঠেকানোর জন্য নিয়ম করা যাবে না।

বাংলাদেশ এমন কোনো স্বাস্থ্যবিধি বা মানদণ্ড নেবে না, যাতে মার্কিন পণ্য অন্য দেশের তুলনায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। জিআই সুরক্ষা বা স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

চুক্তির পরের অংশে চিজ এবং মাংসজাত পণ্যের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কেবল নাম ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের বাজারে প্রবেশে বাধা দেবে না।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমানের মতো সমালোচকরা সতর্ক করেছেন যে, বাণিজ্য নীতির স্বাধীনতা সীমিত হবে, বিশেষ করে এমন কিছু ধারার মাধ্যমে যা তৃতীয় দেশগুলোর (যেমন চীন) সাথে বাণিজ্যকে সীমাবদ্ধ করতে পারে।

যদিও চুক্তিটিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা এবং বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, তবে বিভিন্ন মহল একে অতি সুদূরপ্রসারী এবং জাতীয় শিল্পের জন্য সম্ভাব্য ক্ষতিকর হিসেবে দেখছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *