খাগড়াছড়ি: ভুয়া ভুয়ায় ভরে গেছে দেশটা। ভুয়া ডাক্তার দেশের বড় শত্রু। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এইসব ভুয়া চিকিৎসকের সংখ্যা। প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এবং ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে প্রকৃত চিকিৎসকদের।

একদিকে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা হয়ে পড়েছে প্রশ্নবিদ্ধ, ভেডিকেলগুলোতে কোনো সুব্যবস্থা নেই, চিকিৎসক থাকে না। এরকম হাজারো অভিযোগ আছে। তার উপর ভুয়া পদবীধারী ডাক্তারেরা পরিস্থিতি আরো খারাপ করছে।

ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন অনেক রোগী। জ্বরের জন্য গেলে দেয়া হয় কুকুরে কামড়ানোর ইনজেকশন! কী অদ্ভুত অবস্থায় আছে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা।

এবার খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে মো. শহিদুল ইসলাম (৪০) নামে এক পল্লী চিকিৎসককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (৩ মে) রাত প্রায় ৮টার দিকে উপজেলার কালাডেবা বাজারে অবস্থিত ‘সাকিব মেডিকেল হল’ নামে একটি ফার্মেসিতে এই অভিযান চালানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মো. শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর বৈধ সনদ ছাড়াই ‘সাকিব মেডিকেল হল’ নামে ওই প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবী ব্যবহার করে চিকিৎসা করছিলেন! চিকিৎসার জানেন কী তিনি?

এই অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম বলেন, ‘বিএমডিসি কর্তৃক বৈধ নিবন্ধন না থাকলে কেউই নিজস্ব প্যাড বা পরিচয়ে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে চিকিৎসা দিতে পারেন না।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০-এর ধারা ২৮(৩) অনুযায়ী অভিযোগটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই জরিমানা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য তাঁকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *