ঢাকা: পুলিশের পোশাক নিয়ে কত্ত লঙ্কাকাণ্ড। পোশাকের রং বদলানোর জন্য কত গবেষণা, কত বাজেট! পোশাক আর স্থির হয় না।
তাহলে চোর বাটপারের আর আতঙ্ক থাকবে কি করে? পুলিশকে নিয়ে ওরা এখন খিল্লি ওড়ায়। পুলিশের হাত থেকে আসামি ছিনিয়ে পালায়! এইতো চলছে! আর প্রত্যেকটা সরকার আসে আর পোশাক বদলায়।
এদিকে পুলিশ নিয়ে জনগণের মনেও স্বচ্ছতা নেই। সাধারণ মানুষের ধারণা, প্রতিটি চাঁদাবাজির সাথে পুলিশ জড়িত। প্রতিটি মাদক চোরাকারবারে পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে।
প্রতিটি দমন-পীড়ন, হয়রানি পুলিশকে দিয়েই করানো হয়। তাহলে এই পোশাকি পুলিশ দিয়ে সাধারণ মানুষের কী উপকার হতে পারে!?
পুলিশে স্বচ্ছতা প্রয়োজন, সমাজ শুদ্ধ করতে হলে। সরকার সেদিকে এগোতে হবে। শুধু পোশাক পাল্টালেই সমাজের দায়িত্ব পালন করা হয়ে যায় না!
এখন আবার পুলিশের পোশাক পাল্টানো হবে। পুলিশের আবেদন ও সার্বিক গ্রহণযোগ্যতার কথা বিবেচনায় নিয়ে তাদের পোশাকে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের ইউনিফর্ম হিসেবে আগের নীল রঙের শার্ট বহাল থাকছে। তবে প্যান্ট হবে খাকি রঙের।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’র সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী কথাগুলো বলেন।
তিনি বলেন, ‘কাপড় উৎপাদন ও প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হলেও দ্রুতই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এই সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও আইনানুগ অবস্থানে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের ওপর জনগণের পূর্ণ ম্যান্ডেট রয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং মন্ত্রণালয়ের একটি নিয়মিত রুটিন কার্যক্রম। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা এবং অবসরগ্রহণ সবই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, এসব প্রশাসনিক কাজে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। অবসরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে এবং বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অবিচার না হয়।’
