কুমিল্লা: ধর্ষণ ধর্ষণ আর ধর্ষণ। এই দেশ কবে ধর্ষণমুক্ত হবে স্বয়ং উপরওয়ালাও জানে না। পূর্বঘটিত বহু ধর্ষণ,হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ার প্রতিফলন দিনদিন বাড়ছেই,বাড়বেই এই দেশে।
জন্ম হওয়া নবজাতক থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধা কেউ বাঁচে না ধর্ষকের হাত থেকে। তারপরেও কঠোর শাস্তি নেই ধর্ষকের, খুনীর।
কুমিল্লায় পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লার চান্দিনায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সময় স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে একদল দুর্বৃত্ত।
ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চার জনকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটে রবিবার মধ্যরাতে চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামে।
যাদের আটক করা হয়েছে তারা হলো—চান্দিনা উপজেলার মাদারপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে মো. আশিক (৩১), কামারখোলা গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান তারেক (২৪), একই গ্রামের আলমাছ মিয়ার ছেলে মো. আরিফ (৩৪) এবং মৃত জয়নাল আবেদীন এর ছেলে মো. ইসমাইল (৩৭)।
জানা গিয়েছে, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা সদরের বাসিন্দা উক্ত দম্পতি রবিবার রাতে চান্দিনার মাদারপুর গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন।
তখন রাত হয়তো ১০টা বাজে। তাঁদের অটোরিকশাটি মাদারপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী কামারখোলা গ্রামে আসার পর ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা অটোরিকশাটি ঠেলে নিয়ে এগোতে থাকেন। এসময় মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক এসে তাদের পথরোধ করে দাঁড়ায়। এমন ঘটনায় তাঁরা হতভম্ব হয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, তিন দুর্বৃত্ত এসেই আমাদের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে। তারা ফোন করে আরো দুই জনকে আনে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আমার স্ত্রীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে একটি ভুট্টাখেতের ভেতরে নিয়ে যায়। একজন আমাকে আরো দূরে নিয়ে অন্ধকারের মধ্যে ছেড়ে দেয়। এসময় আমি পুলিশের জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করে।
এক সন্তানের জননী ভুক্তভোগী ঐ নারী সাংবাদিকদের বলেছেন, আমাকে তারা জোরপূর্বক ভুট্টখেতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ শুরু করে। আমি তাদের হাতে-পায়ে ধরেছি, চিৎকার করে কান্না করেছি। কিন্তু তারা কেউ কথা শোনেনি। কেউ আমাকে বাঁচাতেও আসেনি।
চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, সংঘবদ্ধ ঐ চক্রের সাথে পাঁচ জন জড়িত। তাদের মধ্যে দুই জন সরাসরি ধর্ষণ করে। বাকিরাও তাকে ধর্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমরা ঘটনাস্থল থেকে চার জনকে আটক করেছি।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ সার্ভিসে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
