ঢাকা: পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড় উঠেছে। ফুটেছে পদ্মফুল। জনগণ বিপুল ভোটে জয়ী করিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টিকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনগণ। তাঁর পরাজয়ের বেশ কয়েকটি কারণ আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ মমতার মুসলিম তোষণ। শুধু তোষণ না, রীতিমতো তাদের মাথায় তুলেছেন তিনি। আতঙ্ক ঢুকে গিয়েছে হিন্দুদের মনে। কারণ পরিস্থিতি যদি বাংলাদেশের মতো হয় তাহলে সব্বনাশ হবে! আর বাস্তবিক এই পথেই এগোচ্ছিলো পশ্চিমবঙ্গ।
আর বিজেপির কাছে ক্রমশ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় বাংলা দখল। তবে এইবার তৃণমূল দূর্গে ধস নামিয়ে বিজয় লাভ করেছে বিজেপি। যা বলে দিচ্ছে, মানুষ কী চায়!
মমতার দর্প চূর্ণ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়লো বিজেপি।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে প্রথমবারের মতো এই রাজ্যে জয়ী তারা।
পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলের দিকে প্রথম থেকেই তাকিয়ে ছিলো বাংলাদেশ। কারণ ভারত তো বটেই, এই রাজ্যের সাথে সবচেয়ে বেশি সম্পর্ক বাংলাদেশের। যতটা না কূটনৈতিক তার চাইতে বেশি অন্য কিছুতে। আর এই ভোটের ফলাফল অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হতে পারে এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে বিরাট ব্যবধানে জয় শুভেন্দু অধিকারীর। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন। এবার মমতার নিজের গড় ভবানীপুরেও শুভেন্দুর জয়। ১৫,১১৪ ভোটে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা।
নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুর, দুটো কেন্দ্রেই জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পর প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ‘আমাকে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদেরকে প্রণাম জানাই’।
তিনি পরিষ্কার বলেন, ‘আমাকে ভবানীপুরের মুসলমানরা ভোট দেয়নি। আমাকে জিতিয়েছে হিন্দুরা, শিখ সমাজ। আমার এই সিট জেতা প্রয়োজন ছিল। এই আসন হারলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণ হত না। ধন্যবাদ জানাবো বিশ্বের লোকপ্রিয় নেতা নরেন্দ্র মোদিজিকে। আর কৃতজ্ঞতা জানাব আমার নেতা অমিত শাহজিকে। আমার এই জয়ের পেছনে রয়েছে তিনশো বিজেপি কর্মী ও হিন্দু যাঁরা শহিদ হয়েছেন। হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস সহ যাঁরা হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের এই জয় উৎসর্গ করলাম।’
এবারের বিধানসভা নির্বাচন থেকে দুটো কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। পাঁচ বছর পর ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূল সুপ্রিমোর নিজের গড়েও লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
আর সঙ্গে নন্দীগ্রামে নিজের গড়েও দাঁড়িয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দুটো আসনেই বাজিমাত করলেন তিনি।
নন্দীগ্রামে ৯৯৬৫ ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র করকে হারিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুসলিম ভোট যে শুভেন্দু পাননি, তা বলেও দিয়েছেন।
তিনি নিজেই জানিয়েছেন, ‘নন্দীগ্রামে ৬৫ হাজারের মত মুসলিম ভোট রয়েছে। তাই সেই ভোটটা আমি পাইনি। তাই ওখানে বেশি মার্জিনে জিততে পারিনি। অন্যদিকে, ভবানীপুরে ৩৫ হাজার মুসলিম ভোটার ছিল। তাই এখানে ব্যবধান বেশি ছিল আমার।’
শুভেন্দু অধিকারী ভীষণ স্পষ্টবক্তা। এখন জিতেছেন বলে নয়। সবসময়।
হিন্দুদের স্বার্থে বরাবর তিনি কথা বলেছেন এবং সেটা অত্যন্ত জোর গলায়।
দোল উৎসবের দিনেও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘’ওসব ধর্ম নিরপেক্ষতা চলবে না। এই দেশের নাম হিন্দুস্তান। এখানে হিন্দুরা রাজত্ব করবে।‘’
বলেন, “নাস্তিকতা নিপাত যাক। সেকুলারিজম নিপাত যাক। হিন্দুরা যাতে পশ্চিমবঙ্গে সুরক্ষিত থাকে এই প্রার্থনা করব।” এরপর ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই’ স্লোগান দেন তিনি।
দেখুন সেই ভিডিওটি:
