ঢাকা: ইউনূস গং এর মূর্খতা আর লোভে আজ শিশুগুলো মারা যাচ্ছে। খালি হয়ে যাচ্ছে মায়ের কোল।
হাম নিয়ে ড. ইউনূস সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ।
বর্তমানে বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সোমবার একদিনেই রেকর্ড ১৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির জন্য ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত ভুল এবং অবহেলাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরই মধ্যে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। হামের এই প্রাদুর্ভাব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে বারবার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ, কিন্তু সেই সতর্কতা আমলে নেওয়া হয়নি। নিজের ইচ্ছামতো কাজ করেছে জঙ্গী ইউনূস গং।
একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) আন্তর্জাতিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকেই ইউনিসেফ টিকাদান কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে, যাতে প্রতিটি শিশু জীবনরক্ষাকারী টিকা পায়।
বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে ইপিআই চালুর পর থেকে ইউনিসেফ সরকারকে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে।
বিশ্বব্যাপী সংস্থাটি সরকারগুলোর সঙ্গে কাজ করে, যাতে প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছানো যায়। এর জন্য তারা বৈশ্বিক ক্রয়ক্ষমতা, কারিগরি দক্ষতা এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণকে একত্র করে।
এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ পোলিও নির্মূল, নতুন টিকা চালু এবং টিকাদানের উচ্চ হার বজায় রাখার মতো বড় সাফল্য অর্জন করেছে। ইউনিসেফের সহায়তায় দেশে পূর্ণ টিকাদান কাভারেজ ১৯৮০ সালের ২ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ইউনিসেফ পোলিও নির্মূল, মাতৃ ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূল, হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণ এবং এইচপিভি ও টিসিভি টিকার মতো নতুন টিকা চালু করতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি স্কুলভিত্তিক পুষ্টি, পানি ও স্যানিটেশন কার্যক্রমের সঙ্গে টিকাদান যুক্ত করে একটি সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
২০২৫ সালে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ টিকা উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনা বন্ধ করে দিয়ে ‘উন্মুক্ত দরপত্র’ পদ্ধতি চালু করে।
ইউনিসেফ সরাসরি এই বিষয়ে উদ্বেগ জানায় যে এতে টিকা সংগ্রহে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত দেরি হতে পারে। অর্থাৎ এক বছর দেরি।
ইউনিসেফ এই পরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করে সতর্ক করেছিল। সংস্থাটি বলেছিল, এই পদ্ধতি টিকাদান ব্যবস্থা ব্যাহত করতে পারে এবং মহামারির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কিন্তু সেই সতর্কতা শোনেনি সরকার। তাকে উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়, যার ফলে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব ঘটে।
সংকট মোকাবিলায় ইউনিসেফ ২০২৫ সালে আগাম অর্থায়নের মাধ্যমে টিকা সরবরাহ অব্যাহত রাখে, যার ফলে ডিসেম্বর পর্যন্ত কিছু টিকার মজুত বজায় ছিল। তবে কিছু টিকা আগেই শেষ হয়ে যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দেয়।
এ অবস্থায় অর্থ ছাড়ে বিলম্ব ও ক্রয়প্রক্রিয়ার পরিবর্তনের কারণে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়। উন্মুক্ত দরপত্রে টিকা সংগ্রহ সম্পন্ন না হওয়া এবং সরকারের অর্থ ছাড়ে দেরি এই সংকটকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
এই শিশু হত্যাকারীদের বিচার হবে না?
