ঢাকা: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জঙ্গী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় শেখ হাসিনাকে। তিনি আশ্রয় নিতে বাধ্য হন ভারতে।

অবশ্য এই ঘটনার আগেই তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, এবং বলেওছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে চক্রান্ত করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে করেছে। আবার এখন নির্বাচন যখন ঘনিয়ে আসছে, তখন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।’

অবশেষে সেটাই ঘটলো। ম্যাটিকুলাস ডিজাইনে তাঁকে সরানো হলো। ক্ষমতা দখল করলেন নোবেল লরিয়েট ইউনূস।

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকে সরাতে হলে তা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমেই হতে হবে এবং তিনি ঢাকায় ফিরলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই অভ্যর্থনা পাবেন।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের এবং সেটি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল।

অনেকে বলছেন, শুভেন্দু অধিকারীর ‘শেখ হাসিনা বৈধ প্রধানমন্ত্রী’ মন্তব্যটি তাঁর ভোটের স্বার্থে বলেছেন। আসলে তা নয়।

বক্তব্যটি পুরোনো এবং তা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ে করা হয়েছিল।

দেখুন শুভেন্দু অধিকারীর সেই বক্তব্যের ভিডিওটি: 

https://www.facebook.com/share/v/1AzqVDGdWf/

বক্তব্য পুরনো হতে পারে, তবে মিথ্যা নয়।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করার পর থেকে শুভেন্দু বক্তৃতা, বিবৃতি ও বিভিন্ন জনসভায়, মাঠে-ময়দানে বলে আসছেন—বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বৈধ প্রধানমন্ত্রী। সেই বক্তব্য এখন ভাইরাল।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমাদের ১৭ হাজার সেনা আত্মবলিদান দিয়েছে। আমরা মুজিবুর রহমানকে নিরাপত্তা দিয়েছি। আমাদের দেশ দলাই লামাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। ভারত এটা করে’।

শুভেন্দু অধিকারী তোপ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে। এই বিজেপি নেতা বলেন, শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী। বাকিরা অবৈধ। অচিরেই শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশে ফিরবেন। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে স্যালুট করে নিয়ে যেতে হবে।

শুভেন্দু অধিকারী সাফ বলেন, আমাদের ১৭ হাজার সেনা আত্মবলিদান দিয়েছে। আমরা মুজিবুর রহমানকে নিরাপত্তা দিয়েছি। আমাদের দেশ দলাই লামাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। ভারত এটা করে। হাসিনা ওয়াজেদ বৈধ প্রধানমন্ত্রী। এরা অবৈধ। হাসিনা ওয়াজেদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে নামবেন। স্যালুট করে তাঁকে নিয়ে যেতে হবে।

ইউনূস আমলে হিন্দু নির্যাতন নিয়ে প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, বাংলাদেশে চূড়ান্ত নৈরাজ্যের পরিস্থিতি চলছে। বেছে বেছে হিন্দুদের উপরে হামলা করা হচ্ছে। হিন্দুদের মন্দির, দোকান, ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এদের থামানো তো দূরের কথা, মদত দিচ্ছে মহম্মদ ইউনূস সরকার।  অথচ বাংলাদেশ ভারতের উপরে নির্ভরশীল।

ভারত পণ্য না পাঠালে ভাত-কাপড় জুটবে না। ঝাড়খণ্ডের বিদ্যুৎ না পেলে আঁধারে ডুববে বাংলাদেশ। কীভাবে শায়েস্তা করতে হয় আমরা জানি। তারা আবার কলকাতা দখলের ডাক দিচ্ছে। হাসিমারায় ৪০টি যুদ্ধবিমান রয়েছে। দুটি যুদ্ধবিমান পাঠালেই কাজ হয়ে যাবে।

চিন্ময় প্রভু মাথা নত করেননি। সন্ন্যাসীদের দেখে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শিখুন। এটা হিন্দুদের অস্তিত্ব বাঁচানোর লড়াই। এই লড়াই ধর্মরক্ষার লড়াই।

উল্লেখযোগ্য যে, পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাগাতার তিনবার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে ছিলেন।

এবং বাংলাদেশের লাগাতার তিনবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই দেশের সুসম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক নদী আইনের আওতায় বাংলাদেশের সাথে তিস্তা পানি চুক্তি করা সম্ভব হয়নি শুধু মমতার একগুঁয়ে বিরোধিতার কারণে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়লাভের পর এই তিস্তা চুক্তি নিয়েও বেশ আলোচনা হচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *