‘ইসলাম রক্ষা’য় অন্য (সনাতন বা হিন্দু) ধর্মের মানুষকে প্রকাশ্যে নির্মম ও পৈশাচিকভাবে পিটিয়ে খুন করা যাবে। তাকে গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে পোড়ানোও বোধ হয় একধরনের ছওয়াবের কাজ।
কারণ দীপু দাস তো এসব ইসলাম রক্ষাকারিদের কাছে কাফের। এসব কাফেরদেরকে মেরে ফেললে সম্ভবত অধিকহারে ছওয়াব মিলবে।

এসব কথিত ইসলাম রক্ষাকারিদের কাছে একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে রক্ষা করাও অত্যন্ত ছওয়াবের কাজ ছিল। তাদের দৃষ্টিতে ভারতও হিন্দু রাষ্ট্র, তাই সে দেশের বিরোধিতাও চরম ছওয়াবের কাজ। সে কাজটি এরা করে যাচ্ছে সেই তখন থেকেই, এখনও অব্যাহত আছে।
তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গত ৪ মে তাদের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর এ দেশের এই কথিত ইসলাম রক্ষার পুরাতন ও নতুন সোল এজেন্টধারীদের মধ্যে হৃদকম্প শুরু হয়েছে।
কারণ তারা দেখছে যে, বাংলাদেশের স্থলভাগের প্রায় তিনদিকই ভারত বেষ্টিত।

আর বাংলাদেশ সীমান্তঘেষা তিনটি রাজ্যই বিজেপি (ভারতীয় জনতা পার্টি) শাসিত সরকার।

অপরদিকে মেঘালয় সরকারের মধ্যেও বিজেপি রয়েছে। তারমানে বলতে গেলে ইসলামী বাংলাদেশ পুরোটাই গেরুয়া পতাকা বেষ্টিত।

কেউ কেউ হয়তো অতি মৃদু কন্ঠে বলবেন-‘ইসলামী বাংলাদেশ’ কেন বলা হলো তা নিয়ে। কিন্তু যে দেশটির রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখা রয়েছে তাকে ইসলামী রাষ্ট্র ছাড়া আর কিছু বলার সাহস আছে কারো?
তার উপর গত ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্ট মাসে ইসলামী জঙ্গী-সামরিক ক্যু’ এর পর থেকেতো দেশটি পাকিস্তান-তুরষ্কের ইসলামী আধিপত্যেই চলছে। শুধু নামটি বাংলাদেশ রয়ে গেছে। পারেনি শুধু দেশের নামটি বদলে ফেলতে।
সেই চব্বিশের জুলাই-আগষ্টের পর থেকে আমরা শুনে এসেছি গগনবিদারি শ্লোগান- হেই দিল্লী না ঢাকা ..! ঢাকা ঢাকা । নারায়ে তকবীর আল্লাহু আকবর। পাকিস্তানী পতাকা আর নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীর, আইএস এর পতাকা দেখেছি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
শুধু কি তাই ? যে কোন মূহূর্তে ঢাকা থেকে লংমার্চ-রোডমার্চ করে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য দখল করে নেয়া ওয়ান-টুর ব্যাপার ছিল বলে কত আস্ফালন দেখেছি আমরা সে সময় !
এসব আস্ফালনের নেতা ছিলেন এখনকার জাতীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, আরেক টোকাই নেতা সারজিস আলম , নাসির উদ্দিন পাটোয়ারি যাকে ডার্বি নাসির হিসেবেই বেশি চেনে লোকজন।

অবশ্য হাসনাত আবদুল্লাকেও অনেকে ‘কালাপাঁঠা‘ হিসেবেই ডাকে অনেকটা আদর করেই বোধ হয়।
তো সেই কালাপাঁঠা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জেতার পর তার কথাবার্তার অভাবনীয় ডিগবাজি দেখলাম। একটু দেখে আসি কি বলেছিলেন আমাদের এই আদরের কালাপাঁঠা।
২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ইসলামী উগ্রবাদী রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম হিসেবে পরিচিত ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ র একটি সমাবেশে উপস্থিত থেকে তীব্র ভারত বিরোধী বক্তব্য দিয়েছিলেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ওরফে কালাপাঁঠা।
তখন তিনি বলেছিলেন- “নির্বাচন বানচাল করতে চাইছে, দেশের পরিবেশকে যারা অস্থিতিশীল করতে চাইছে, সীমান্তে যারা আমাদের ভাইদেরকে-বোনদেরকে মেরে ঝুলিয়ে রাখে, তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পৃষ্টপোষকরা দিচ্ছে ভারত।”
“ভারতকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, যারা আমার দেশের সার্বভৌমত্বকে বিশ্বাস করে না, যারা আমার দেশের সম্ভাবনাকে বিশ্বাস করে না, যারা ভোটাধিকারকে- মানবাধিকারকে বিশ্বাস করে না, যারা এ দেশের সন্তানকে বিশ্বাস করে না, আপনারা (ভারত) যেহেতু তাদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দিচ্ছেন, কথা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই–– ভারতের যারা সেপারেটিস্ট আছে, বাংলাদেশে আমরা তাদের আশ্রয়-প্রশয় দিয়ে যে সেভেন সিস্টার্স আছে সেটাকে ভারতে থেকে আলাদা করে দেবো,” বলেন তিনি।
ভারতকে শেখ হাসিনার ‘পৃষ্ঠপোষক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দিনের আলোর মতো স্পষ্ট-স্বচ্ছ, তাদেরকে ভারত অর্থ দিয়ে, অস্ত্র দিয়ে, ট্রেনিং দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাদের দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।”
তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, “আমাদের ভারতের বিরুদ্ধে একটি পার্শ্ববর্তী দেশ বলার কোনো সুযোগ নাই। আপনাদের জবানে স্পষ্ট করতে হবে, এই বাংলাদেশকে ভারত একটা ফিলিস্তিন বানাইতে চায়।”
“ক্ষমতার জন্য, ক্ষতির জন্য, মন্ত্রণালয়ের জন্য” যারা দিল্লির প্রতি আনুগত্য করছে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ( যিনি নাকি ড, ইউনুসের ভাষায় জুলাই-আগষ্ট অভ্যুত্থানের মাষ্টারমাইন্ড) ওই সভাতেই তার বক্তব্যে এক পর্যায়ে বলেছেন, “ভারত থেকে আপনারা সন্ত্রাসের উসকানি দেবেন, সন্ত্রাস চালাবেন, আমার ভাইয়ের ওপর গুলি চালাবেন, এটা আমরা বরদাশত করব না”।
অথচ একেবারে পাল্টি খাওয়া বক্তব্য দিলেন সেই হাসনাত আবদুল্লাহ!! কি তাজ্জব ব্যাপার! সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী যা জানা গেলো তাতে এই আবদুল্লাহ বলেছেন, “ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচন শেষে বাংলাদেশ নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে তা দূর করতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
তিনি অবশ্য এখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
গত ৫ মে কুমিল্লার চান্দিনা-দেবিদ্বার মহাসড়ক প্রশস্তকরণের বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এ কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,‘রাজনৈতিকভাবে যাদের সংখ্যালঘু মনে করা হয়, তাদের অধিকার রক্ষায় আরও বেশি সচেষ্ট হতে হবে যেন বৈশ্বিক একটা বার্তা দেয়। আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের যে প্রচেষ্টা রয়েছে, আমাদের সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে একটি বার্তা দেওয়া যে, বাংলাদেশ সব মতের, সব ধর্মের একটি নিরাপদ ভূমি। এটি সুরক্ষা করতে পারলে ভারতের নির্বাচন পরবর্তী যে নেতিবাচক শঙ্কাটি রয়েছে তা থাকবে না।’
বাংলাদেশে গত ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্টে এই হাসনাত আবদুল্লাহ্ টাইপের উগ্র ইসলামপন্থী গজায়মান রাজনৈতিক বাটপাররা এদেশের পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনকে চরমভাবে কলুষিত করে ফেলেছে।
অথচ সেই হাসনাত আবদুল্লাহ্ যাকে সমালোচকগণ “কালাপাঁঠা” হিসেবেই সম্বোধন করেন তিনি বেশ মোলায়েম স্বরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ইলেকশনে ফলাফলের ব্যাপারে যে কথাবার্তা বলছেন তাতেও সন্দেহ জাগে।
তার বক্তব্যের মূল বিষয়সমূহ ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নিরাপদ আবাসভূমি ও নেতিবাচক প্রচার প্রতিহত করা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ব্যাপারে তিনি বলেছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলাদেশে যে শঙ্কার পরিস্থিতি বা নেতিবাচক প্রচার তৈরি করার চেষ্টা চলছে, তা দূর করতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নিরাপদ আবাসভূমি বলতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ যে সব ধর্ম ও মতের মানুষের জন্য একটি নিরাপদ আবাসভূমি, তা বিশ্বকে জানাতে হবে।
পাশাপাশি নেতিবাচক প্রচার প্রতিহত করা নিয়ে এই হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে কোনো ধরনের নেতিবাচক উপস্থাপন প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি মূলত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নির্বাচনের ফলাফলের কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তবে নৃবিজ্ঞানের শিক্ষক নাসির উদ্দিনের মতে- “পশ্চিমবঙ্গের মসনদের পরিবর্তন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে তেমন কোন পরিবর্তন আনবে বলে আমার মনে হয় না। বরঞ্চ, কেন্দ্রের দোহাই দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ যেসব কাজ জায়েজ করার চেষ্টা করেছে যা বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে, সেটা এখন আর সম্ভব নয়; কেননা, কেন্দ্র এখন পশ্চিমবঙ্গে এসে গেছে। তবে, দিল্পীর গরম এখন কলকাতায় আসার কারণে বাংলাদেশের গায়ে দিল্লীর তাপ একটু দ্রুত ও বেশি লাগবে, সেটা অনস্বীকার্য ।“
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানাজন এই কারঅপাঠা’র বক্তব্যের নানা সমালোচনা করে মন্তব্য করছেন।
এদের মধ্যে সৈয়দ মাযহারুল পারভেজের ভাষায়-“সেভেন সিস্টার দখল করতে চাওয়া বীরদের কথা জড়িয়ে আসছে কেনো?”

দিব্যেন্দু শেখর বিশ্বাস বললেন- ‘বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব মুসলিম দেশেই সব রাজনৈতিক দলই বহুকাল পূর্ব থেকে প্রচলিত এ মিথ্যা কথাকে আশ্রয় করে সকল হাসনাত আবদুল্লাহরাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহুভাবে অবর্ণনীয় দলন, নিষ্পেষণ, নির্যাতন করেই চলেছে। অবশ্য ওদের এ মিথ্যা কথার জবাব কোন কালেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দিতে পারেনি সম্ভবত কখনও পারবেও না।”
তবে মাহবুব টুংকু একটু ভিন্নরকম মন্তব্য করলেন। তিনি বললেন-‘ এদের উগ্র আচরণে বিজেপি লাভবান হয় তেমনি বিজেপির আচরণে এরা। এই দুই পক্ষই একে অপরের পরিপূরক, সাধারণের ক্ষতির কারণ ।’
অবশ্য বাংলাদেশের কিছু উগ্রবাদী ইসলামপন্থী ও বাম রাজনৈতিক দল সবসময়ই ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব তৈরির অভিযোগ করে আসছে।
এমনকি শেখ হাসিনা সরকার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’-এমন শ্লোগানও শোনা গেছে ঢাকার রাস্তায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হিন্দু ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিভিন্ন ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হয় এবং এর জের ধরে বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল ।
পাশাপাশি ভারতের পণ্য বয়কটের ডাক, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা, বাংলাদেশে ভারতের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়া, বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা তুলে নেওয়া , ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলতে না যাওয়া- এমন অনেক ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সাথে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে মনে করা হলেও ওই সময়ে তিস্তা নদীর পানি ইস্যুটির সমাধান করা যায়নি মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অবস্থানের কারণে। তিনি প্রকাশ্যেই এর বিরোধিতা করেছিলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেছেন, “নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে সেখানকার ( ভারতের পশ্চিমবঙ্গের) কিছু নেতা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্য করেছেন, যা দুঃখজনক। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের বড় সীমান্ত আছে এবং সম্পর্কের মাত্রা বহুমাত্রিক। এর মধ্যে এ ধরনের মন্তব্য সামনেও আসতে থাকলে সেটি এদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে।” – এটি কি একধরনের থ্রেট দিচ্ছেন এই এনসিপি নেতা?
একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ -স্বাধীনতাযুদ্ধ ও ভারতের চরম বিরোধীতাকারি দল জামায়াতে ইসলামীও চরমভাবে দুঃখিত মমতা’র চরম পরাজয়ে ও সেই সাথে চরমভাবে নাখোশ বিজেপি’র ভূমিধ্বস বিজয়ে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রভাব পড়বে না এবং বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের উৎসাহিত হবার আশঙ্কা তারাও খুব একটা দেখছে না।
“তবে তাদের হিন্দুত্ববাদিতা, সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদীতা আমাদের উদ্বেগের বড় কারণ। তাদের রাষ্ট্রের যে আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতা সেটিই তারাই তো মানছে না। মুসলিমের ওপর যে নিগ্রহ সেটি তো সব দেখা যায় না। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ থাকলে তো অন্য ধর্মের লোকেরা নিরাপদে থাকতো”।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভারতের রাষ্ট্র ও সরকারের সহায়তা নিয়েই তো আওয়ামী লীগ শক্তি সঞ্চয় করেছিল এবং শেখ হাসিনা তাদের প্রশ্রয়েই আছেন। বিজেপি সরকার তো তাকে সহায়তা করছে। এখন তারা আরও শেল্টার পেয়ে ষড়যন্ত্র বাড়াতে পারে”।
তার মানে দাঁড়াচ্ছে – হাসনাত আবদুল্লাহর মত কিছু পাঠা জাতীয় রাজনীতিবিদের হৃদকম্পন শুরু হয়েছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা যেন মামার বাড়ির আবদার ধরলেন তার কথাতেই। তার মতে ভারতে হিন্দুত্ববাদ চরম ক্ষতিকর।
কিন্তু হে মিয়া গোলাম পরওয়ার আপনাকে একটু ছোট্ট প্রশ্ন করি। তা হলো- হিন্দুত্ববাদ চরম ক্ষতিকর, কিন্তু ইসলামী জঙ্গীবাদ খুব ভালো জিনিস? এসব ভণ্ড প্রতারক নেতারা ভারতকে “ধর্মনিরপেক্ষ” দেখতে বড় ভালোবাসে। কিন্তু বাংলাদেশ ইসলামী রাষ্ট্র থাকুক সেটাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
তবে আরো যেটি দেখলাম আমরা- তাহলো পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র ভূমিধ্বস বিজয়ে বাংলাদেশের উগ্র ইসলামীসহ স্বল্প ইসলামীরাও চরম নাখোশ। তারমানে হিন্দুত্ববাদ খুব খারাপ জিনিষ, আর ইসলামী জঙ্গীবাদ খুব ভালো জিনিষ !! আরও সরল করে বললে বলা যায়- ইসলামী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন অসাম্প্রদায়িক ও ছওয়াবের, আর হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন সাম্প্রদায়িক!!
তারমানে- বিচার মানি, কিন্তু তালগাছ আমার – এই টাইপের মনমানসিকতা আমাদের বাংলাদেশী মুসলিম নাগরিকদের।
# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।
