ঢাকা: সড়ক এখন মৃত্যুফাঁদ,দুর্ঘটনা বাড়ছেই, থামার কোনো লক্ষণ নেই।
বেপরোয়া গতি, অদক্ষতা আর অব্যবস্থাপনার মাশুল দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।
প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার মধ্য দিয়েই জনগণকে চলাচল করতে হচ্ছে, যেখানে জীবনের নিরাপত্তা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।
এই দেশে যে পরিমাণ মানুষের অকাল মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়, তা ভয়ংকর রকমের অবহেলার ফল। দিন দিন এই দুর্ঘটনা বাড়ছে। এখনই বিষয়টিকে কঠোর নিয়ম-নীতির মধ্যে আনা জরুরি।
কিন্তু তা হয় কৈ? প্রয়োজনে জাতীয় বাজেটের একটি নির্দিষ্ট অংশ সড়ক নিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ দিয়ে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সময়ের একমাত্র যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
এই দেশে যে যেভাবে পারে সেভাবে গাড়ি, মোটরসাইকেল চালায়।
বাস চালকদের জন্য ন্যূনতম কোনো মানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। কোনোভাবে লাইসেন্স পেলেই তারা বাস চালানো শুরু করে দেয়।
এদিকে, গতির ক্ষেত্রে নেই কোনোরকম নিয়ন্ত্রণ বা কার্যকর নীতিমালা।
দেশে গত এপ্রিল মাসে ৪৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় ৪০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এবং এই সময় আহত হয়েছেন ৭০৯ জন।
এর মধ্যে ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১৩ জন, যা মোট নিহতের ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এছাড়াও ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও চালকের সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৬ জন।
আজ, বুধবার (৬ মে) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৬৮টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৩টি আঞ্চলিক সড়কে, ৪৫টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি শহরের সড়কে ঘটেছে। দুর্ঘটনার মধ্যে ৯৭টি মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৯৪টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১০৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে ও ৫২টি যানবাহনের পেছনে আঘাতের কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় মোট ৬৫৯টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে বাস ৮৪ টি, ট্রাক ৯১ টি, মোটরসাইকেল ১৫৩টি এবং থ্রি-হুইলার ১১২ টি।
