বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে যে আলোচনা চলছে খুব বেশি তা হলো পাশের দেশ ভারতে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির ভূমিধ্বস বিজয় নিয়ে। এই বিজয়ে এখানকার মুসলিমদের মাথায় যেন বাজ পড়েছে।
কারণ এরা চেয়েছিলেন তাদের পেয়ারের মোছাম্মত মমতাজী আবারো ক্ষমতায় আসবেন, বিপুল ভোটে জিতে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালিই শুধু নয় এ যেন জলন্ত আগুনে পানি ঢেলে ‘ইসলামী জোশ’কে নিভিয়ে দেয়া হলো।
কারণ বাংলাদেশে গত প্রায় দুই বছর যাবৎতো ইসলামী বিপ্লব এর ধ্বজাধারীদের পয়মন্ত অবস্থা। তাই বাংলাদেশী অধিকাংশ মুসলমান চেয়েছিল তাদের পেয়ারের মমতাজী আবারও জিতবেন সদলবলে।

তাহলে বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গ উভয় জায়গাতেই ইসলাম তথা জঙ্গীবাদী ইসলামকে আরো অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত করা যেতো।
কিন্তু এই পশ্চিমবঙ্গে যে এবার বিজেপি তার গেরুয়া বসন দিয়ে ঢেকে দেবে তা তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল।
এখন বাংলাদেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও কথিত সুশীল সমাজের লোকজন বলাবলি করছে- আহারে ! কি যে হলো পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আর ভোটারদের? তারা কেন যে বিজেপিকে বেছে নিল? তাদের মতে বিজেপি একটি হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক দল। এতে করে সাম্প্রদায়িকতার উত্থান হবে দুই বঙ্গেই। মানে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে।
কিন্তু এসব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও কথিত সুশীল সমাজের লোকজন কিন্তু বাংলাদেশ যে একটি ইসলামী সাম্প্রদায়িক সমাজ তৈরী করেছে ইতিমধ্যেই তা কিন্তু বলছেনা।
আওয়ামীলীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এরা যে চরমপন্থী ইসলামী অপশক্তি ও আমেরিকান ডিপ ষ্টেটের নীলনকশায় খেলায় মেতে উঠেছিল তা আর স্বীকার করতে রাজী নয়।
বাংলাদেশের সংসদে বিএনপি নামক একটি জগাখিচুরি দলের দুই তৃতীয়াংশ আসন দখল করে সরকার গঠন করেছে সত্য। কিন্তু বিরোধী দলে কারা এবং তাদের সংখ্যা কত?
সেখানে কিন্তু সেই একাত্তরের কুখ্যাত খুনী রাজাকার-আলবদর-আলসামশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নতুন ভার্সন “এনসিপি’ ও অন্য চরমপন্থী ইসলামী দলগুলোর আধিপত্য রয়েছে।যে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বা ‘ইলেকশন নামক সিলেকশনে’ এই বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে যে দলটি নেতৃত্ব দিয়েছিল সেই আওয়ামীলীগকে অংশ নিতে দেয়া হয়নি।
অথচ এই দলটি এখনো ধর্মনিরপেক্ষতাকে অন্তত কিছুটা হলেও ধারণ করে অফিসিয়ালি (ভেতরে ভেতরে যদিও অনেকে সেই আওয়ামী মুসলীমলীগকেই ধারণ করে মননে)।
এই লেখাটি যখন লিখছি তার ঠিক কয়েকঘন্টা আগেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী জঙ্গীবাদের নতুন ভার্সন টোকাইদের দল এনসিপির এক সমাবেশ হলো চট্টগ্রামে।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠানে এনসিপি’র আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জঙ্গী নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন,‘পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান নির্যাতনের প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছি।’

তার এ বক্তব্য কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে সেটাই প্রশ্ন।বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখলাম ওই অনুষ্ঠানে নাকি বিএনপি, এলডিপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলেল কিছু লোকজন এনসিপিতে যোগ দিয়েছে।
চট্টগ্রামে এনসিপি-জামায়াত-বিএনপি মনস্ক এনটিভি’র এক সাংবাদিক আরিচ আহমদ তার ফেইসবুকে পোষ্ট দিয়েছে-‘ চট্টগ্রামে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে আলোচিত কাউকে যুক্ত হতে দেখলাম না’।
এর প্রতিক্রিয়ায় আরেক সাংবাদিক লিখেছেন- ‘আপনার নাকি যোগ দেয়ার কথা ছিল? অনানুষ্ঠানিক থেকে আনুষ্ঠানিক?’
আসলে এমনটিই চলছে বাংলাদেশের রাজনীতি-সামাজিক ও সাংবাদিক মহলসহ সুশীল সমাজে।
চট্টগ্রামে এনসিপির ওই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে বিজেপির জয়লাভের প্রতি ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলছিলেন, ‘বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী এলাকা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। কিন্তু আমরা দেখেছি, নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাদের অধিকাংশই মুসলমান ও মতুয়া সম্প্রদায়ের।’
তিনি বলেন,‘আমি সংসদেও বলেছি। মুসলমানদের সেখানে (পশ্চিমবঙ্গ) নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটার প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে। নির্বাচনের পর সেখানে মুসলিম নির্যাতন হচ্ছে। মতুয়া, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।’
এই যে নাহিদ ইসলাম প্রচ্ছন্নভাবে হুমকি দিলেন প্রকাশ্যে যে, এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে- এ দিয়ে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে।
কিন্তু নাহিদের চোখে কি বিগত ইউনুস সরকারের সময় মানে তিনি যে সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা ছিলেন তখন যে সারা বাংলাদেশে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজনকে চরমভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন, খুনসহ নানা অজুহাতে অত্যাচার ও কারাগারে ঢোকানো হয়েছে তা তার চোখে পড়েনি ?
প্রকাশ্যে যে হিন্দুদেরকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে তাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়নি ?
এই নাহিদইতো তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন। তখন যে কয়েকজন সম্পাদক, সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে জেলে বিনাবিচারে আটক রাখা হয়েছে তাতে কি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়নি?
বিভিন্ন সংবাদপত্র, টিভি দখল করে নিয়েছে জামাত-বিএনপি ও এনসিপির নেতা-কর্মী ও ক্যাডাররা তা তার চোখে পড়েনি?তারই জঙ্গী দল এনসিপির আরেক ক্যাডার যিনি ‘কালাপাঁঠা’ নামে পরিচিত ও এখন সাংসদ সেই হাসনাত আবদুল্লাহ যে বিভিন্ন টিভি ও পত্রিকা অফিসে তার ইচ্ছেমতো লোক বসিয়েছে, হুমকি দিয়েছে, চাকরিচ্যুত করেছে তা কোন গণতন্ত্রের অংশ ?
চট্টগ্রামের সমাবেশে ‘পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে বাংলাদেশকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে উল্লেখ করে নাহিদ আরো বলেছেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, এদেশের হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকারের দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।
আমাদের শত্রুপক্ষ দেশের স্বার্থবিরোধী নানা উসকানি দেবে। সাম্প্রদায়িকতা ছড়াবে। প্রোপাগাণ্ডা ছড়াবে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে। আমরা দেখিয়ে দেব, দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা বাংলাদেশ।’
বেশ সুন্দর সুন্দর কথা বললেন চব্বিশের জঙ্গী টোকাই দলের নেতা নাহিদ ইসলাম ও তার সঙ্গী নেতারা।কিন্তু এদের মনের ভেতর যে কি তা তো বোঝাই গেলো।
**বিএনপি’র মুক্তিযোদ্ধারা সংকোচ করেন কেন রাজাকারকে রাজাকার বলতে?
বাড়াবাড়ি করলে বলবো তোরা ‘রাজাকার-আলশামস-আলবদর’- এয়োদশ জাতীয় সংসদে বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।এমন বক্তব্য তিনি দিয়েছেন গত ২৯ এপ্রিল।বিরোধী দলকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন,‘ বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না।
বেশি খোঁচালে আমরা সেই ইতিহাস ভুলে যাইনি, তখন বলতে ইচ্ছা করে, তোরা রাজাকার, তোরা আলশামস, তোরা আলবদর।’
এদিন সংসদে সরদার সাখাওয়াত বলেন, আজকে যারা গণতন্ত্রের সবক দিতে চায়, তারা ৭১-কে ২৪-এর সাথে সম্পৃক্ত করে খাটো করতে চায়। আমরা বীরত্বের সাথে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বলে আমরা ধৈর্য ধরছি।
কিন্তু আদর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনও সমঝোতা হবে না। আমাদের সমঝোতা কেবল দেশের উন্নয়নের স্বার্থে।’
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালে পাকিস্তান সফরের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মুক্তিযোদ্ধা এই মন্ত্রী বলেন, সাফমা কনফারেন্সে পাকিস্তানে গিয়েছিলাম।
সেখানে এক পাকিস্তানি এমপি আমার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় জেনে জামায়াতে ইসলামীর এমপির সামনেই আমাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিল। সেই অপমান আমি ভুলিনি। যখন বেশি বাড়াবাড়ি করা হয়, তখন মনে পড়ে যায় এদের পরিচয়—এরাই রাজাকার, আলবদর ও আলশামস।
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ধানমন্ডি ২ নম্বরের সারা ভবন বা হোয়াইট হাউসে আমরা নির্যাতিতা বোনদের দেখেছি। যাদের হাত ছিল দুর্গন্ধে ভর্তি, চামড়া ছিল খসখসে। কারো কোলে ছিল সন্তান, কেউ ছিল অন্তঃসত্ত্বা। সেইসব জীর্ণশীর্ণ চেহারার কথা আমরা ভুলিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের বেশি খোঁচাবেন না।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তার বক্তব্যে পরিষ্কার করে বলেন, ‘দেশের স্বার্থে ঐক্য হলেও আদর্শগতভাবে তারা একাত্তরের পরাজিত শক্তির সঙ্গে কোনো আপস করবেন না।’
আসলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়তো ভেতরে ভেতরে জ্বলছেন সেই একাত্তরের কথা স্মরণ করে। কিন্তু তারা মানে এই বিএনপিইতো সেই একাত্তরের খুনী রাজাকার-আলবদর-আলসামশ ও জামায়াতে ইসলামীর সাথে পেয়ার মহব্বত বেশি করেছেন। তাদের সাথেইতো তাদের দোস্তালী আজীবন।
তা হঠাৎ করে এই গোস্বা কেন এদের ওপর বড় জানতে ইচ্ছে করে।তাদের দলৈইতো ছিলেন কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজুর রহমান।মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকি পা চাটা শান্তিকমিটির নেতা আবদুর রহমান বিশ্বাসকে তারাইতো দেশের প্রেসিডেন্ট বানিয়েছিলেন। রাজাকারের গাড়িতে এই বিএনপিইতো জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল।
আরেক কুখ্যাত বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরী ( সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী)যাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে আদালতের আদেশে তা কি ভুলে গেছেন এই মুক্তিযোদ্ধা স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন? নাকি সংসদে একটু নিজেকে জাহির করার খায়েশ হয়েছে ওনার?
লেখাটি যা দিয়ে শুরু করেছিলাম। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বেগমের শোচনীয় পরাজয় ও বাংলাদেশের মুসলমানদের ভয় নিয়ে সেখানেই ফিরে যাই।যে মমতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠিীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও লালন পালন ও পেট্রোনাইজ করেছেন তাকেই কিনা বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলিমরা সমর্থন করছে?কেঁদেকেটে হয়রান! অবশ্য সেটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু এরা ভুলে গেছে- এই মমতাই বাংলাদেশকে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি বাধা দিয়েছিল।তার কারণেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তার পানিচুক্তি করতে পারেনি।
তখনওতো বিজেপিই ছিল ক্ষমতায়।তাহলে যেই বিজেপি সরকার বাংলাদেশের প্রতি সহানুভুতিশীল ও বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল তিস্তা নিয়েই শুধু নয়, আরো অনেক ক্ষেত্রে সেখানে আমাদের এই বাংলাদেশের মুসলিমদের কাছে চরম অপছন্দের দল বিজেপি?
ইরান-আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধে যখন চরম জ্বালঅনী তেল সংকট দেশে তখন কিন্তু এই বিজেপি সরকারই শেখ হাসিনার করে যাওয়া পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালিানী তেল দিয়েছে ও দিচ্ছে।বিদ্যুৎ সংকটে যথন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা তখন কিন্তু ভারতই বিদ্যুৎ দিচ্ছে।
এদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে। যখন চালের সংকট, পেঁয়াজের সংকটসহ অন্য পন্যের সংকট তখন কিন্তু এই ভারত ও বিজেপি সরকারই বাংলাদেশের জনগনের পাশে দাঁড়িয়েছে।মায়ানমার থেকে যখন দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকেছিল তখন কিন্তু বিজেপি সরকারই বাংলাদেশে অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য প্রথম বৈদেশিক সাহায্য পাঠিয়েছিল।
কিন্তু নেয়ার বেলায় ষোলআনা, কৃতজ্ঞতার বেলায় উল্টো এই বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলিম নাগরিক।
সবশেষ একটি কথা না বললেই নয়, এই যে লন্ডনে ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে পলাতক বা রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরলেন ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন তাওতো শোনা যায় বিজেপি’র ইঙ্গিতে বা ভারত সরকারের প্রচ্ছণ্ন সহায়তায়। এটি কূটনীতি।
তারমানে তখন পর্যন্ত বিজেপি বা ভারত সরকার ঠিক আছে।কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কেন বিজেপি ক্ষমতায় আসলো সেখানকার জনগনের ভোটে এতেই সমস্যা হয়ে গেলো? এতেই সাম্প্রদায়িকতা উষ্কে উঠলো বাংলাদেশী মুসলমানদের ( অল্প ব্যতিক্রম ছাড়া) মধ্যে?
বাংলাদেশে ইসলামী দল ও তাদের সমর্থিতরা সংসদে বা ক্ষমতায় থাকলে তখন সাম্প্রদায়িক হয়না, আর পশ্চিমবঙ্গের জনগনের বিপুল ভোটে বিজেপি জিতলেই সাম্প্রদায়িক হয়ে যায়? বাংলাদেশে সনাতনী সম্প্রদায় তথা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টানসহ আদিবাসীদের ওপর অত্যাচার করলে,নির্যাতন-নিপীড়ন ও পুড়িয়ে মারলে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস হয়না?
এনসিপি-বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সাংসদ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য শুনে সেই কথাই মনে পড়ে- একি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে?
# ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও নারী অধিকার সংগঠক।
