ঢাকা: ভারত তো অবৈধদের আশ্রয়দাতা নয়। অবৈধ বাংলাদেশিদের যদি ফেরত পাঠায় তাতে ভারতের দোষটা কোথায়? তারপরেও দেখবেন এই দেশের রাজাকারেরা তর্ক বিতর্ক শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যেই।

ভারতে অনেক অবৈধ বাংলাদেশি।অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে জাল কাগজপত্র বানায় দালাল ধরে। এবং এদের বড় একটা অংশ মুসলিম।

এই বিষয়ে ভারত বরাবর সতর্ক। রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের মূল বিষয়ের প্রেক্ষাপট দেখতে হবে। এর জন্য বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এই দেশে মুসলমানের নির্যাতনের শিকার হয়ে হিন্দুরা চলে গেছে ভারতে। এবং আইনী প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্বের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করে। এদের কোন সমস্যা নেই।

মূল সমস্যা হলো জঙ্গিদের! মাদক ব্যবসায়ীদের। যারা অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে আকাম কুকামগুলো করেছে, এখনো করে যাচ্ছে। জঙ্গীবাদ চালাচ্ছে। জঙ্গীকে ভারত কোনোদিন সহ্য করেনি। করবেও না।

বিভিন্ন সময় ভারত বিভিন্ন রাজ্য থেকে অবৈধ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার করে। আসাম পশ্চিমবঙ্গে এর মাত্রা বেশি।

এখন এই বিষয়টা নিয়ে বাংলাদেশে একটা ‘ভারত বিরোধী’ ন্যারেটিভ সাজানোর চেষ্টা চলছে।

অবৈধ বাংলাদেশিদের কারাগারে দেয়া হতে পারে, তাদের শাস্তি হতে পারে, জঙ্গী কারবারিদের বড় শাস্তি হতে পারে। পুশ ব্যাক হতে পারে ভবিষ্যতে।

আর বাংলাদেশে রাজাকার, আলবদরের দল মিডিয়ায় বলবে মুসলমানদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর এটাকে ইস্যু করে নতুন করে শুরু হবে হিন্দু নির্যাতন। তাইতো চাইছে এরা।

কিন্তু এটা স্বীকার করবে না, বলবে না যে ওরা অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে জাল কাগজপত্র দিয়ে আধার কার্ড, প্যান কার্ড থেকে শুরু করে পাসপোর্টও বানিয়েছিল, ভারতে থেকে ভারত বিরোধিতা, জঙ্গীদের সাথে হাত মিলিয়ে ভারতের ধ্বংস চেয়েছিলো।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ভোটে জেতার পরেই পাকি গোষ্ঠীর নাচন কোঁদন শুরু হয়ে গেছে। তারা ভাবেওনি তাদের পেয়ারে মমতা আপা হেরে যাবে। এখন শুরু হয়ে গেছে কান্না। গেলো গেলো রব। অথচ এরাই যে সবচেয়ে বড় সাম্প্রদায়িক, হিন্দুদেরকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দিচ্ছে সেকথা কে বলবে!?

গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষিত হয়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। ২৯৪টির মধ্যে তারা ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে।

এর পর মঙ্গলবারই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক এই পটপরিবর্তন নিয়ে মুখ খুলেছিলেন খলিলুর। বলেছিলেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে যদি ‘পুশ ইন’-এর মতো ঘটনা ঘটে, তবে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা। কী ব্যবস্থা নেবেন সেটা তাঁরা জানেন।

তবে নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপি দল বারবার অভিযোগ করেছিল যে, অভিযোগটা নতুন নয়, এবং মিথ্যা নয়-মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশ থেকে রাজ্যে ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে, যদিও তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত আশা করে যে- ঢাকা নাগরিকদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করবে, যাতে তাদের ফেরৎ পাঠানোর প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার ভারত জানিয়েছে, ‘পুশব্যাক’ বা জোর করে ফেরৎ পাঠানোর আশঙ্কা নিয়ে বাংলাদেশ সম্প্রতি যেসব মন্তব্য করেছে, সেগুলোকে অবশ্যই ভারত থেকে নথিপত্রহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসন বা ফেরত পাঠানোর চলমান প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে বিচার করতে হবে।

জয়সওয়াল বলেন, “ভারত আশা করে যে ঢাকা নাগরিকদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করবে, যাতে তাদের ফেরৎ পাঠানোর প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে এগিয়ে যেতে পারে।”

সাপ্তাহিক সংবাদিক বৈঠকে সাংবাদিকদের জয়সওয়াল বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে আমরা এ ধরনের মন্তব্য লক্ষ্য করছি। এই মন্তব্যগুলোকে অবশ্যই ভারত থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের মূল ইস্যুটির প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। আর এর জন্য স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের কাছে ২,৮৬০টিরও বেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অনুরোধ বা আবেদন ঝুলে আছে। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলার ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আছে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *