ঢাকা: পাকিস্তানি ভাবধারার যারা বিশ্বকবির সঠিক মর্যাদা দেয়না, সেই মৌলবাদীদের দেয়া না দেয়ায় কিচ্ছু যায় আসে না।

রাজাকার, আলবদরের গোষ্ঠী রবীন্দ্রনাথের প্রশংসা করলেও কিছু যায় আসে না, কুৎসা রটালেও কিছু যায় আসে না। রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথই থেকে যায়।

হান্নান মাসুদ ওরফে বন্দর মাসুদ রবীন্দ্রনাথ নোবেল পাওয়ার জন্য ইংরেজদের তেল মেরে খুশী করাই ছিল আসল কারণ বলার পেছনে তার একটা শিক্ষা আছে। সেই শিক্ষাটা হচ্ছে পাকি শিক্ষা।

যারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সঙ্গীত ‘সোনার বাংলা’ উচ্চারণ করতে চায় না তারা যে এইসব ষড়যন্ত্র করবেই সেটা তো বলাই বাহুল্য।

তবে একটি কথা বলে রাখি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ষড়যন্ত্র পাকিস্তান থেকে আজ অবধি অসফল।

শুদ্ধ ও বিজ্ঞ আত্মাকে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আক্রমণ করেছে হয়তো আগামিতেও করবে। কিন্তু আমাদের যা করতে হবে, রবি চর্চা আরো বাড়াতে হবে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ সে প্রদীপ যে প্রদীপের আলো শুধু বঙ্গ নয় বরং সমগ্র বিশ্বের অন্ধকারের আলোক হয়ে আজও বিদ্যমান।

যার সামনে মহাত্মা গান্ধী থেকে নেতাজি সুভাষ বোস, ইংল্যান্ড থেকে সাউথ আফ্রিকা শ্রদ্ধায় বিনম্র হয়ে থেকেছে, তিনিই কবিগুরু।

কোনো ভৌগোলিক সীমানা যাকে আবদ্ধ করতে রাখতে পারেনি, তাকে মূর্খদের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষে কতটুকু সীমাবদ্ধ করতে পারে!? নাহ! সত্যি পারে নাহ। তবুও সে মূর্খের আস্ফালন চলতে থাকে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আগ্রাসন নতুন নয় বরং অনেক দীর্ঘ সময়ের আবর্তে তা আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।

দেড়শ বছরেরও বেশি পেরিয়ে গেছে। তবু কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজও প্রাসঙ্গিক। এবং যত যুগ পেরোবে তিনি আরো প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবেন। আজ তাঁর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বিশ্বকবির সৃষ্টিকর্ম নিয়ে চারদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশিত হবে।

রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালায় ৮ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসবে রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, আলোচনা সভা, নাট্য প্রদর্শনী ও শিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া দেশব্যাপী জেলা পর্যায়ের শিল্পকলা একাডেমিগুলোতেও একইরকম আয়োজন রাখা হয়েছে।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত থাকবেন ।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করবেন একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *