পাবনা: পাবনার চাটমোহরে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। এই দেশে বড় বড় অপরাধ, মানুষ খুন করেও সাজা হয় না, অথচ ছোট ভুল, বা ভুল হয়তো নয়ই তাদের মৃত্যুর দুয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়।

চাটমোহরে ১২০ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয় এক কিশোরীকে। এই অপমান সইতে না পেরে শ্রাবন্তী খাতুন (১৪) নামের ঐ কিশোরী আত্মহত্যা করেছে।

শুক্রবার (৯ মে) বিকালে উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের চিনাভাতকুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পেয়ে সেদিনই মূল অভিযুক্ত হান্নান মোল্লাকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ।

গরীব মেয়েটিকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়।

নিহত শ্রাবন্তী ওই গ্রামের দিনমজুর আলতাব হোসেনের মেয়ে। প্রায় এক বছর ধরে সে প্রতিবেশী হান্নান মোল্লার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করত।

শুক্রবার সকালে হান্নান মোল্লার ঘরের আলমারির ড্রয়ার থেকে ১২০ টাকা হারিয়ে যায়। এই ঘটনায় শ্রাবন্তীকে সন্দেহ করেন হান্নান মোল্লা ও তার স্ত্রী রুবিয়া খাতুন।

তার দুই হাত খুঁটির সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে খুব অত্যাচার করা হয়।

নির্যাতনের মাধ্যমে তার থেকে জোর করে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন সেখানে থাকা কয়েকজন প্রতিবেশী।

এত মানুষের সামনে এমন অপমান ও নির্যাতনের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্রাবন্তী। বাড়ি ফিরে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে দেয় ।

পরিবারের সদস্যরা তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। চাটমোহর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় ময়নাতদন্তের জন্য।

এই ঘটনায় আটক করা হয় হান্নান মোল্লাকে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *