ঢাকা: প্রতিদিন ১০/১২ জন করে শিশু মারা যাচ্ছে হামে। সরকারিভাবে ঘোষণা না করা হলেও হামে মৃত্যু চার শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। আরো বেশিও হতে পারে।

প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে রোগটি। সরকারের উচিত সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে এখন হামের ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। যেকোনো মূল্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আর একদিনও সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই।

কিন্তু আমরা তা দেখছি না। সরকারের একটি কথাও শোনা যায় না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যস্ত গাড়ি চালাতে!

প্রতিদিন শিশুদের মৃত্যুর এই বাস্তবতা আর সহ্য করা যাচ্ছে না। কারও একমাত্র সন্তান, কারও বহু প্রতীক্ষার পর পাওয়া আদরের ধন। যে হাসতো খেলতো, সেই শিশু হয়তো মুহূর্তেই স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে। মায়েরা কীভাবে সামলাবেন এই পরিস্থিতি?

প্রতিটা মৃত্যুর পেছনে একটা করে পরিবার ভেঙে গেছে, অথচ এই দেশের শাসকদের চোখের পাতাও নড়েনি।

তথ্য বলছে, এই মৃত্যুগুলো কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল নয়। এটা সরাসরি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা, পরিকল্পিত অবহেলা আর কাঠামোগত দুর্নীতির ফসল।

এবং প্রবণতা স্পষ্ট, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, আর দায়িত্বপ্রাপ্তরা গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার বদলে ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করে যাচ্ছেন নির্বিকার ভঙ্গিতে।

এমনকি ওষুধ পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না।হাসপাতালের স্টোরে ওষুধ মজুদ থাকার দাবি সত্ত্বেও রোগীর স্বজনদের ২০/ ৩০ হাজার টাকা খরচ করে বাইরের দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে ওষুধ, স্যালাইন, ক্যানোলা, এমনকি অ্যান্টিবায়োটিকও।

নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হতে দ্বিগুণ সময় লাগছে।

সাধারণ নিউমোনিয়ায় যেখানে ৫ থেকে ৭ দিনে রোগী সুস্থ হয়, সেখানে হাম পরবর্তী নিউমোনিয়ায় ১৪ দিন বা তারও বেশি সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

যে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে ব্যর্থ, সে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার রাখে কিনা, সেটাই প্রশ্ন উঠছে।

দেশজুড়ে হামের মহামারীতে যখন একের পর এক শিশুর কফিন বাড়ি ফিরছে, তখন বিএনপি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল কী বলেছেন মনে আছে?

“হাম হলে আয়ু বাড়ে।” তাঁর ভাষায়, “হাম ছোট বেলায় আমরাও হয়েছে, আপনারও হয়েছে। সব শিশুর ছোট বেলায় হাম হয়। আমরা তো মরে যাইনি। হাম হওয়ায় আমাদের আয়ু আরো বৃদ্ধি পাইছে।”

বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন “যুগান্তকারী” আবিষ্কার এর আগে কোনো স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেননি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *