ঢাকা: ভারতীয় জনতা পার্টি জয়লাভ করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটলো।
বাস্তবিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনব্যবস্থা যেদিকে ঢলেছিলো, যেভাবে উগ্রবাদী চিন্তাধারা প্রকাশ পাচ্ছিলো, তাতে সনাতনীদের আতঙ্ক ঢুকে গিয়েছিলো।
এই পতনের অনেক কারণ আছে। তার মধ্যে এটি একটি।
এইগুলো আর শোনা কথা নয় । নব্বই লক্ষ আইডি কার্ডধারী বাংলাদেশী, আরও নানা পদের মৃত, এক লোকের একশত পুত্র ভোটের আগে কোলকাতা থেকে বিতাড়িত করেন নির্বাচন কমিশন!
অনেক কিছুই তো দেখা হলো। শ্রীজাত, কবীর সুমনেরা গণজাগরণ মঞ্চের সময় কথা বললেও, চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশে এতো কিছু ঘটে যাবার পরেও মুখে একটা টু শব্দ করলেন না। তাঁরা সরব মানুষ বলেই বলছি ।
এইযে, তিস্তা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে এতো কথা, কার জন্য সম্পন্ন হয়নি? মমতার জন্য। তারপরেও দেখবেন রাজাকার, জামাতের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো, বিজেপি খারাপ, শত্রু।
শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেয়ার পর শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
এবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত নিয়ে কড়া পদক্ষেপ হাতে নিতে চলেছে বিজেপি সরকার।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।
সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে BSF- কে জমি হস্তান্তর করতে হবে, এই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে। বৈঠক শেষে এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ- এর যতটা জমি প্রয়োজন, ততটাই স্থানান্তর করা হবে।
সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সীমান্তের সুরক্ষার স্বার্থে তৎপর হয়েছে এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।
উল্লেখ করা প্রয়োজন, এর আগে বহুবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, অভিযোগ শোনা গিয়েছে সীমান্তে বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে।
এবার আর কোনো কথা নয়। পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু এবং অন্যান্যরা। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ- এর প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) কার্যকর এবং সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেছে নতুন সরকার।
এদিন, সোমবার (১১ মে) রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সদ্য শপথ নেওয়া মন্ত্রীরা।
তাঁদের মধ্যে ছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নীতিশ প্রামাণিক। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আমলারা বৈঠকে অংশ নেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, নতুন সরকার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ মডেলে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবে।
