ঢাকা: কারাগারে সাংবাদিক! কন্ঠ চেপে ধরেছে রাষ্ট্র। এখনো অবধি চেপে ধরাই। জঙ্গী ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছরে ৩৫৪ জন সাংবাদিককে হত‍্যা, হত‍্যাচেষ্টা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক করা হয়েছে।

সংখ্যাটা আরো বেশিও হতে পারে। দেখা গেছে, কেউ কেউ একসঙ্গে দুটো মামলারও আসামি। মানে একই সময় দুটো ভিন্ন স্থানে তিনি হত‍্যার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, যা বাস্তবে অসম্ভব।

আবার দেখা গেছে, যাকে হত্যা করা হয়েছে এমন মামলায় সেই মৃত ব্যক্তিই সরাসরি হাজির হয়ে গেছেন।

বিষয়গুলো অনেকটা এমন হয়ে গেছে যে লোকজন একে অন‍্যকে ঠাট্টা করে বলছে, ‘তোমার নামে এখনও হত‍্যা মামলা হয়নি?’ হত‍্যা মামলা ইউনূসের সময় বাংলাদেশের জন‍্য দুধভাত হয়ে গিয়েছিলো।

কোনোকিছুতে এঁটে উঠতে না পারলেই দাও হত্যা মামলা ঠুকে, মুখ বন্ধ করে। ব্যস! যাত্রাবাড়ির হত্যামামলা কত আছে? আশ্চর্য এই দেশের আইন কানুন! আন্ধা কানুন হ্যায়। কিন্তু বিচারে নয়, অবিচারে আন্ধা।

বহু সাংবাদিক, চিকিৎসক, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত‍্যা মামলা রয়েছে এবং অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন। কারাগারে হত্যার নিদর্শনও আছে।

তেমনি কারাগারে বন্দী সাংবাদিক ফারজানা রূপারা।

চব্বিশের জুলাই জঙ্গী আন্দোলনে হত্যাসহ ১৩ মামলার মধ্যে সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপাকে ১১ মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এর মধ্যে ফারজানা রুপা ৬ এবং শাকিল আহমেদকে ৫ মামলায় জামিন দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।আদালতে জামিনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

তবে তাঁদের দুইজনকে একটি করে মামলায় জামিন না দিয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। ফলে সব মামলায় জামিন না হওয়ার কারণে তাঁরা এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

শাকিল বার্তাপ্রধান হিসেবে ও ফারজানা প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে একাত্তর টেলিভিশনে কাজ করছিলেন।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই দিনেই জঙ্গী ইউনূস চেয়ারে বসেছিলেন।

২১ আগস্ট তাঁদের ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরায় ফজলুল করিম নামের একজনের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাঁদের কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। বতর্মানে তাঁরা কারাগারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *