ঢাকা: ৫ আগস্ট না এলে আমরা জানতাই পারতাম না যে, সভ্য, এলিট, শিক্ষিত মানুষের মুখোশ পড়ে এত এত চিটার, চোর বাটপার, মুখোশধারী মানুষ আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়!
তাই বলে বলছি না যে ৫ আগস্ট এসেছে ভালো হয়েছে।
এইতো কারিনা কায়সার। মাত্র তো সেদিনের ঘটনা। কারিনা, তার বাবা, মা সপরিবারে যে চোর তা ধরা পড়লো।
গণভবন শুধুমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র বাসভবন ছিল না। এটা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। রাষ্ট্রের সম্পদ চুরি, লুটপাট জঘন্যতম অপরাধ। তারচেয়েও বড় অপরাধ এইসব চোরদের পক্ষে সাফাই গাওয়া। কারিনার পরিবার তাই করেছে।
কারিনা আর তার পরিবার মব ভায়োলেন্সকারীদের উৎসাহ দিয়েছে ৫ আগস্টে। তারপর সারা বাংলাদেশে যে পরিমাণ লুটপাট আর মব ভায়োলেন্স হয়েছে এটার দায় এই পরিবার কী এড়াতে পারবে?
কারিনা কায়সার একজন ইনফ্লুয়েন্সার কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, তাঁদের মতো মানুষকে লুটপাটে অংশগ্রহণ করা মানায় না। তার কাছ থেকে তার অনুসারীরা এই মেসেজটাই পায় লুটপাট করা কোন অন্যায় না। সমাজে এই মেসেজ টাই লাইভ টেলিকাস্ট করে কারিনা দিয়েছে।
আনন্দ করে দেখিয়েছে গণভবন থেকে কী চুরি করেছে!
এখন লিভার জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছে।
কারিনা কায়সার দিল্লি না ঢাকা স্লোগানের একজন সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন। শেষমেষ জীবন বাঁচাতে সেই দিল্লি বা ভারতই যে শেষ ভরসা হবে এটা হইতো উনি তখন ভাবেননি।
সবশেষে বলি মানুষের মুখের কথার অনেক ওজন, তাই কথা বলার আগে ভেবে চিন্তে বলাই ভালো।
তা জুলাই আন্দোলনের যোগ দেয়া হয়েছেই দেশটাকে খাওয়ার জন্য। তাঁর পিতার কাছে চিকিৎসার টাকা নেই কেন তাহলে?
তাঁকে মানবিক কারণে সাহায্যের জন্য সবার আগে এগিয়ে আসা উচিত, যারা জুলাই ষড়যন্ত্রের দ্বারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে তাদের।
পরিষ্কার করে বলতে গেলে মবস্টার ইউনুস মহাজন সহ হাবাদুল্লাহ, গোপাল ভাঁড় নাহিদ, অপদেষ্টা আসিফ, বেলা রিজুয়ানা, নজরুল ষাঁড়, সার্ভিস মলম, ডার্বি পাটোয়ারী ইত্যাদি আরকি! তারা কৈ?
তারপর চিকিৎসা হোক ভারতে। স্লোগান হোক- দিল্লি না ঢাকা? চেন্নাই চেন্নাই।
সোমবার (১১ মে) রাত ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারিনাকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। কারিনার সঙ্গে তার মা ও দুই ভাই রয়েছেন।
চিকিৎসার এতটা ব্যয় জোগাড় হয়নি, সেই কারণে এখনই যেতে পারেননি তার বাবা জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ।
কায়সার হামিদ জানান, ‘দেশে আমার কিছু কাজ এখনো বাকি। ব্যয়বহুল চিকিৎসা, তাই অনেক টাকার সংস্থান করতে হচ্ছে। সে কারণে আমি এখন যাচ্ছি না। আমার স্ত্রী ও সন্তানেরা ওর সঙ্গে আছে। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’
চিকিৎসা, হাসপাতালের বিল ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যয় মেটাতে পরিবারকে চরম আর্থিক চাপে পড়তে হয়েছে। পরিবারের ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙতে হচ্ছে এবং জমি বিক্রির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে কায়সার হামিদ জানিয়েছেন।
কারিনার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলেও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তার বাবা জানিয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, শরীরে সংক্রমণ হয়েছে, তিনি হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হয়েছেন। আগে থেকেই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ছিলো জটিলতা ক্রমে বাড়তে থাকে।
