ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির নামে দাসত্ব চুক্তিকে বাতিল করা হবে না, বরং বাংলাদেশ সরকার সেই চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করবে। এইকথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, আমাদের জনগণের জন্য ক্ষতিকর কোনো চুক্তি আগে যেগুলো হয়েছে, প্রত্যেকটার পুনর্মূল্যায়ন করবে সরকার।
ইউনূস যে তার কপালে আমেরিকার সিল মেরে বাংলাদেশে বসে দেশটাকে বিক্রি করে দিয়েছেন চুক্তির নামে তা নিয়ে কেউ একটা কথা বলে না। অথচ জামাত শিবিরের গোষ্ঠী এখন আবার ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারত নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার এসেছে আর এদের রাতের ঘুম হারাম!
আন্দোলনে নেমেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে! ভারত সীমান্তে কাঁটাতার দেবে এই নিয়েও অ্যালার্জি। অথচ কয়দিন পর যে চুতিমাফিক বাংলাদেশকে শুয়র কিনতে হবে সে নিয়ে কোনো আওয়াজ নেই। ইউনূস জামাতির সহোদর তো, আওয়াজ থাকবে কী করে?
বাংলাদেশ আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্তে এখনো জনগণকে অবহিত করা হয়েছে ভালোভাবে?
জাতি জানতে চায়। ইউনুস জনগণের এখতিয়ার ছাড়া কিভাবে অন্য একটি দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি করতে পারে?
বাংলাদেশের জন্য অপমানজনক এই চুক্তি এবং দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে।
বিএনপি সমর্থিত সরকার ও একই রাজনৈতিক রেখার বিরোধীদল এই বাণিজ্যক চুক্তিকে দেশের জন্য যুগান্তরকারী বলে উল্লেখিত করেছে কিন্তু তারা সংসদ সদস্য হয়েও জনগণের কাছে চুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করেনি।
ইউনূসের গোলামী চুক্তির সর্বনাশটা দেখান?
সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেছেন, চুক্তিটি আপাতদৃষ্টিতে দ্বিপাক্ষিক মনে হলেও, এর ভেতরে এমন কিছু শর্ত আছে যা বাংলাদেশের সার্বভৌম অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বাণিজ্যিক স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
১. নীতি নির্ধারণে সার্বভৌমত্ব হারানো (ধারা ৪.১ ও ৪.২)। চুক্তির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করে, তবে বাংলাদেশকে বাধ্যতামুলকভাবে একই পদক্ষেপ নিতে হবে।
অর্থাৎ, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে, তা এখন থেকে হোয়াইট হাউস ঠিক করে দেবে। এটি বাংলাদেশের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
২. তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে বাধা (ধারা ৩.২ ও ৪.৩)। চুক্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি এমন কোনো দেশের (যেমন- চীন বা রাশিয়া) সাথে বাণিজ্য চুক্তি করে যা যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করে পুনরায় উচ্চ শুল্ক আরোপ করতে পারবে।
এখানে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের বিষয় রয়েছে আমাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে। ধারা ৪.৩ অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অপছন্দের কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি বা জ্বালানি কিনতে পারবে না। এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো প্রকল্পের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারে।
এরকম আরো আরো আছে।
এদিকে এখনো বলা হচ্ছে নাকি পর্যালোচনা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, চুক্তি বাতিল করার অপশন আছে।
মানে ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে বাতিল করে দেওয়া যাবে। এটা হলো এক নম্বর। দুই নম্বর হচ্ছে এই চুক্তির মধ্যে আরেকটা কন্ডিশন আছে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বিভিন্ন শর্তে পরিবর্তন করতে পারে।
তো আমি আমার জায়গা থেকে মনে করি-অন্তত আমরা পরের যে অপশনটা বললাম চুক্তিটা পর্যালোচনা করার আগে সরকারি পর্যায়ে এটার পর্যালোচনা করা।
তিনি বলেন, আমি দেখলাম যে পত্রিকায় কলাম লেখা হচ্ছে যে এখানে (চুক্তি) কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমস্যা আছে, ভিডিও তৈরি হচ্ছে এগুলো কন্টিনিউ করুক।
উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই ইস্যুতে কথা বলেছি। আমরা সরকারের মধ্যেও আমরা এই চুক্তিটা নিয়ে কিছু পর্যালোচনা এবং চুক্তি যেটা খুবই শক্তিশালী চুক্তি এবং এটা বাতিল করে দেওয়ার ইমপ্যাক্ট কী হতে পারে নিশ্চয়ই আমরা বুঝতে পারি, বা কোন প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিটা স্বাক্ষরিত হয়েছে সেটাও আমরা বুঝতে পারি।
কিন্তু ওই যে বললাম ওই সুযোগটা তো আমরা নিতে পারি যে এই চুক্তি রিকনসিডার করা কিছু কিছু জায়গায়, যে যে জায়গাগুলোকে আমরা বেশি সমস্যাজনক মনে করি, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর মনে করি, সেগুলো নিয়ে আমরা আগে আমাদের বিবেচনা করব।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি, আমরা ওরকম একটা নেগোসিয়েশনে তাদের সঙ্গে যেতে চাই। বাতিল করাটা বাইল্যাটারাল সম্পর্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফে যে সংকট আছে, সেটা আবার চলে আসার সম্ভাবনা আছে।
চুক্তি নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, চুক্তির ব্যাপারে একটু বলি। মানে আমরা অনেকে চুক্তি কমনলি বলে ফেলি, চুক্তির অনেকগুলো টাইপ আছে। তাই না? কতগুলো আছে এগ্রিমেন্ট, কতগুলো আছে মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (সমঝোতা স্মারক)।
সো বিভিন্ন ক্যাটাগরি। আমরা যেগুলো এগ্রিমেন্ট হয়ে গেছে, সেগুলো থেকেও যে বেরিয়ে যাওয়া যাবে না তা নয়, কিন্তু এগুলোর কতগুলো লিগ্যাল বাইন্ডিং আছে যখন চুক্তিগুলো হয়ে যায়। এবং অনেকের ক্ষেত্রেই লিগ্যাল বাইন্ডিং এতটাই টাফ থাকে যে, বেরিয়ে যাওয়াটা অনেক সময় থাকার চাইতে বেশি ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।
তিনি বলেন, এর বাইরে যা যা আছে, ইনফ্যাক্ট একটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার অনেকগুলো ব্যাপার মাথায় রেখেই চিন্তা করবে। আরেকটা কথা একটু আমি জাস্ট ইনফরমেশনের জন্য বলি-কোনো কোনো চুক্তির কিছু অংশ গোপন রাখার শর্তও থাকে। জনগণের অধিকার আছে এবং এমনকি সংসদে ওঠানোরও কনস্টিটিউশনাল প্রভিশন আছে। কিছু কিছু চুক্তির মধ্যে ওটা থাকতে পারে।
