চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েছে দলীয় নেতাকর্মী ও দেশে একাত্তরের পক্ষের জনগণ।

তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর।

তিনি লিখেছেন, “চিরবিদায় নিলেও মোশাররফ ভাই মানুষের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটে থাকবেন।”

বুধবার সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন; তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর বয়সী।

সদ্যপ্রয়াত এই আওয়ামী লীগ নেতাকে স্মরণ করেন আনিস আলমগীর তাঁর ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, “ইউনূসের আমলে কারাবন্দি অবস্থায় তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় মুক্তি পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই অবনতি নিয়েই আজ (অর্থাৎ ১৩ মে’) সকাল সোয়া ১০টায় তিনি পরপারে চলে গেলেন।”

জঙ্গী ইউনূস মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনকেও ছাড়েননি। তাঁর দোষ কী? কিছুই না।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ওই বছরের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

পরের বছর ২০২৫ সালের ৫ অগাস্ট রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। কারাগারের হাসপাতাল থেকে তাঁকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ২০২৫ সালের ১৪ অগাস্টে জামিনে মুক্তি পান তিনি। তাঁর জামিনের জন্য ইউনূসকে কাতরভাবে খোলা চিঠি দিয়েছেন মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী পর্যন্ত!

বাটপার ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

ফেসবুকের তিনি লিখেছেন, “আমার এলাকা চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আজ মারা গিয়েছেন। ইউনূসের আমলে কারাবন্দি অবস্থায় তার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় মুক্তি পেয়েছিলেন- কিন্তু সেই অবনতি নিয়েই আজ সকাল সোয়া ১০টায় তিনি পরপারে চলে গেলেন।

মোশাররফ ভাই আমার বিয়েতে- বউভাতে উপস্থিত ছিলেন। আমার আব্বা-আম্মার জানাজাতেও তাকে পেয়েছিলাম। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে সঙ্গী হওয়ার এই গুণটাই তাকে আলাদা করে চিনিয়ে দিত। জনতার সঙ্গে মিশে যাওয়ার তার ছিল এক অদ্ভুত ক্ষমতা।

রাজনীতি থেকে অনেকটা অবসরেই ছিলেন তিনি- ২৪-এর নির্বাচনে তার পরিবর্তে তার ছেলে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
চিরবিদায় নিলেও মোশাররফ ভাই- মানুষের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটে থাকবেন।

আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মীরসরাইয়ের বারৈয়ার হাটে আমার ভাই মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার শোকসভায় যোগ দিতে তিনি আমাকে সফরসঙ্গী করেছিলেন। পথে আমরা নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতেও গিয়েছিলাম- তার মায়ের মৃত্যুতে শোক জানাতে। ঢাকা থেকে গাড়িতে যেতে যেতে তার রাজনৈতিক জীবনের অনেক অজানা গল্প তিনি উন্মোচন করেছিলেন।

১৯৭০ সালে তিনি সর্বপ্রথম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর তিনি ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮,২০১৪ এবং ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রিঃ তারিখে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি মুক্তিযুদ্ধে সাব-কমান্ডার ছিলেন- আজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তিনি যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছিলেন- জিয়াউর রহমান চেয়েছিলেন তিনি যেন বিএনপিতে যোগ দেন।

তিনি দেননি- কিন্তু জিয়াকে শ্রদ্ধা করতেন, তাদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। তার মুখে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে অনেক ইতিবাচক কথা শুনেছি, যা আমি খুব কমই শুনেছি অন্য কোনো আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে।

পরপারে ভালো থাকবেন মোশাররফ ভাই- আল্লাহ যেন আপনাকে বেহেশতবাসী করেন, এই দোয়া করি”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *