ঢাকা: কনটেন্ট ক্রিয়েটর, অভিনেত্রী তথা জুলাই জঙ্গী আন্দোলনের যোদ্ধা, গণভবন লুটপাটকারী কারিনা কায়সার মারা গিয়েছেন।

কারো মৃত্যু আমাদের আনন্দিত করে না। কারণ আমরা মানুষ। কিন্তু এই জায়গায় যদি কোনো মুক্তিযোদ্ধা মারা যেতেন সেখানে জুলাই যোদ্ধারা কী করতো? উল্লাস! পৈশাচিক উল্লাস!

যে মেয়ে দিল্লি না ঢাকা বলে চিৎকার করে, তাঁর চিকিৎসাই হচ্ছিলো ভারতে। ভারতেই এদের শেষ আশ্রয় হয়।

শুক্রবার (১৬ মে) ভারতের চেন্নাইয়ে অবস্থিত ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৩১ বছর। তিনি লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। বলতে গেলে লিভার শেষ হয়ে গিয়েছিলো। শোনা যায় প্রচুর মদ খেতেন তিনি।

কারিনার বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ তার মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় হঠাৎ তার রক্তচাপ অনেক নিচে নেমে যায়। পরে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুরুতে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

তবে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ মে রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল।

চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু হয়। পাশাপাশি লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রস্তুতিও চলছিল। তবে তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

তাঁর মৃত্যু নিয়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীর লিখেছেন:

কারিনা কায়সারের কোনো কাজ এর আগে আমার সেভাবে দেখা হয়নি। তবে সম্ভবত তার একটা সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম। আর সেখান থেকেই জানতে পারি যে তিনি আমাদের দেশের কিংবদন্তি ফুটবলার কায়সার হামিদের মেয়ে এবং দাবার রানী রানী হামিদের নাতনি।

আজ তার এই অকাল মৃত্যুর খবরটি শুনে মনটা ভীষণ ব্যথিত হয়েছে। সন্তানের এমন আকস্মিক চলে যাওয়া যে কোনো বাবার জন্যই চরম সহ্যাতীত এবং বুকভাঙা কষ্টের। একজন পিতা হিসেবে এই বেদনা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।

তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *