চুয়াডাঙ্গা: ওরা-ঐ যে তাদের কথা বলছি যারা দেখতে মানুষের মতো, দুটো হাত, দুটো পা, একটা মাথা আছে- আকৃতিতে মানুষ কিন্তু প্রকৃতিতে নয়। মান আর হুঁশ নেই মানুষ হলো কীভাবে? ওরা পাকিস্তানপন্থী, রাজাকারের গোষ্ঠী।
তা না হলে মহিলা গান নাচ করেন বলে এই দোষে কাউকে দাফনে বাধা দেয়া হয়? হয় বটে! এই দেশে এখন সব হয়। কবর থেকে লাশ উঠিয়ে পোড়ানোও হয়। আবার জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে ঝুলিয়ে দেয়াও হয়। কী না হয়?
ওরা নাচ দেখতে পারে না, গান না, বাজনা না, নাটক না, পহেলা বৈশাখ না! কিন্তু ধর্ষণ দেখতেও পারে, করতেও পারে। গর্ভবতী নারীও পিশাচদের থেকে বাঁচে না।
এরা কারা? পাকিস্তানি শাসনামলে যারা বলেছিল, পহেলা বৈশাখ উদযাপন হিন্দু কালচার, তাদেরই বংশধররা এখন বাঙালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কথা বলছে।
ওরা শুধু কথা বলে না, নববর্ষের অনুষ্ঠানে হামলাও করে। ২০০১ সালে পহেলা বৈশাখে রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা চালানো হয়। এর আগে ১৯৯৯ সালে যশোর এবং পরে ২০০৫ সালে নেত্রকোনায় উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়।
উগ্র মৌলবাদীরা দেশটাকে খুবলে খাচ্ছে। সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর হামলা আরও অনেকবার হয়েছে।
সামাজিক অঙ্গনেও পাকিস্তানি সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ভীষণ দৃশ্যমান। তরুণ প্রজন্মের একাংশের আচার-আচরণ, ব্যবহার, পোশাক-আশাক, এমনকি ভাষা পর্যন্ত বাঙালি সংস্কৃতির অংশ নয়। এরা বাংলার চেয়ে হিন্দি-উর্দু সংস্কৃতি বেশি পছন্দ করে।
চুয়াডাঙ্গা শহরতলির দৌলতদিয়াড় এলাকায় মর্মান্তিক ঘটনা নাড়া দিয়েছে দেশকে। এক নারীর (৩৫) মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের আপত্তির মুখে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর দাফন কার্যক্রম কার্যত থেমে যায়। কারণ তিনি নাচ গান করতেন।
মৃত্যুতে একটা মানুষের পরিসমাপ্তি। তখন শত্রুও বোধহয় মুখে একটু পানি তুলে দেয়, কিন্তু এই নরপিশাচেরা?
জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই নারী। তিনি সেখানে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তার মরদেহ চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড় এলাকার নিজ বাড়িতে আনা হয়। তবে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পরপরই দাফন নিয়ে আপত্তি তোলে স্থানীয়দের একটি অংশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নারী ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন।
তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। ঐ নারীকে বলা হয়, খারাপ মানুষ।
এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আমাদের আপত্তি ছিল। তাই এলাকাবাসী এখানে দাফন দিতে রাজি হয়নি।’
আরেক বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের নিজস্ব কবরস্থান। তিনি (আত্মহত্যাকারী নারী) বা তার পরিবার এখানে সদস্য না। আগে সদস্য হওয়ার কথা বলা হলেও তারা তা মানেননি।’
ঐ নারীর সৎবাবা বলেন, ‘এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যকে এখানেই দাফন করা হয়েছে। এখন কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না’!
জানা যায়, পরে সমঝোতা করে বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় তাঁকে দৌলায়দিয়াড় গ্রামের কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।
এই বাধাগুলো নতুন না। হয়েই আসছে। ভবিষ্যতে আরো হবে যদি পাকিস্তানপন্থী এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশ একজোট না হয়।
