রংপুর: শিবিরের ম্যাটারিয়েল আবু সাঈদ হচ্ছে ম্যাটিকুলাস ডিজাইনের অংশ। তাকে মেরেই জঙ্গী আন্দোলনকে তরান্বিত করা হয়েছে। মানুষ দেখবে এবং ভাববে শেখ হাসিনা এমন? একজন ছাত্রকে গুলি চালাতে পারলো? অথচ এসব কিছুই না।
বলির পাঁঠা আবু সাঈদ। ঐযে বললাম ডিপ স্টেট, রাজাকার, পাকিস্তানপন্থী জামাত শিবিরের ম্যাটিকুলাস ডিজাইনে সব হয়েছে।
জুলাই আগস্টের সকল খুনের মাস্টারমাইন্ড ইউনুস। আর আসামি বানানো হচ্ছে শিক্ষকসহ সমাজের হিতাকাঙ্খীদের।
আবু সাঈদ ছিলো দখলদারদের মেটিকিউলাস ডিজাইনের সফল প্রজেক্ট।
এই নোংরা প্রজেক্টের স্থপতি ও মাস্টারমাইন্ড ড. মুহাম্মদ ইউনুস—যিনি এক হাতে হত্যার নকশা আঁকেন, অন্য হাতে সেই রক্তের গল্পকে বই আর গ্রাফিতিতে রূপ দেন।
আবু সাঈদের জন্য তার কোনো শোক নেই, নেই কোনো মানবিক বোধ—বরং “শহীদ ” বলে ২৪শে জুলাইকে বগলদাবা করে প্রজেক্টের রিপোর্ট হাতে বিদেশে হাসিমুখে হাজির হয়েছেন তিনি।
অসংখ্য হত্যার চিহ্ন আছে তাঁর হাসিতে। আর তার বলি হয়ে চলেছে এখনো সহজ সরল মানুষগুলো।
গুলিতে মারা যায়নি; অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে— এটাই দাবি করেছেন মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
এবং এটাই সত্য।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই দাবি তুলে ধরেছিলেন।
আজিজুর রহমান বলেন, ‘আবু সাঈদের ওপর যে রাবার বুলেট বা পিলেটস ব্যবহার করা হয়েছিল, তা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর ছিল কি না। কিন্তু এ নিয়ে কোনো যুক্তি খণ্ডন করেনি প্রসিকিউশন। এর অর্থ হলো আবু সাঈদ গুলিতে মারা যাননি। অন্য কোনো কারণে মারা গেছেন।
অর্থাৎ হেড ইনজুরিতে (মাথায় আঘাত) মারা যাওয়ার ঘটনাটিকে সমর্থন করে। কারণ তার গেঞ্জিতে কোনো ছিদ্র ছিল না’।
তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে দাখিলকৃত আবু সাঈদের পাঁচটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের একটিতেও সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর নেই। অর্থাৎ এ প্রতিবেদনটি ডিফেক্টিভ বা ত্রুটিপূর্ণ। এ ছাড়া, আবু সাঈদকে যখন ছয়জন পুলিশ ঘিরে ধরে একজন পুলিশ লাঠি দিয়ে আঘাত করেন, তখন আবু সাঈদ নিজেকে বাঁচাতে হাতের লাঠি দিয়ে পুলিশের একজন সদস্যের হাতের লাঠিকে প্রতিহত করেন। এ মামলায় আবু সাঈদের একটি বীরত্বগাঁথা রয়েছে। তিনি সাহস নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন।
গেঞ্জিতে ছিদ্র নেই- জানিয়ে দুলু বলেন, এ মামলায় ২৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন যে, এই গেঞ্জির ছিদ্র নেই। গেঞ্জির অংশটি সামনের না পেছনের এটাও তিনি জানেন না। প্রসিকিউশনের দায়িত্ব হলো প্রমাণ করা। তারা প্রমাণ করতে পারতেন এটা সামনের নাকি পেছনের অংশ। কিন্তু বলতে পারেনি। আর এ সন্দেহের কারণে আসামিরা খালাস পাবেন।
ইউনূসের সেই ভাবধারা ঠবহন করে চলেছে বিএনপি সরকার। মনে হয় এই সরকারের ওপর চাপ আছে।
তা নাহলে এমন নির্মম গ্রেপ্তারি এখনো?
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি কতটা অসুস্থ এবং তাঁর বয়স হয়েছে।
তিনি আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আসামি বানানো হয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার রাত আটটার দিকে মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেন।
জুয়েল রানা বলেন, ‘অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। শনিবার রাতে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাঁকে দেখতে পেয়ে আটক করে রাখে। পরে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে আসে।’
উল্লেখযোগ্য যে, অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
একজন এত বয়স্ক শিক্ষক যাবেন হত্যা করতে? কী অদ্ভুত ভুতুড়ে কাণ্ড!
২০২১ সালের জুন মাসে তাঁকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি বানিয়ে দেয়া হয়েছে তাঁকে। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল এই মামলায় রায় হয়। রায়ে এই মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। অধ্যাপক হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
