ঢাকা: ভারত সবসময় বলতে সবসময়েই বাংলাদেশের পাশে ছিলো এবং আছেও। প্রতিবেশি রাষ্ট্রের যে কোনো বিপদে ভারতই প্রথম এগিয়ে আসে। পেয়ারে পাকিস্তান আসে না কিন্তু! কিন্তু তারপরেও দেশে অবৈধ বীজেরা চিৎকার করে হেইইই দিল্লি না ঢাকা! ঢাকা ঢাকা…! অথচ সেই দিল্লিতে গিয়েই মরছে জুলাই যোদ্ধারা। থুক্কু ঝুলাই যোদ্ধারা!
কারিনা কায়সারকে নেয়া হলো ভারতে চিকিৎসার জন্য। শোনা গেছে জুলাই জঙ্গী পারছিস আলমের বাবাকেও ভারতে নেয়া হয়।
যাই হোক, ভারত কেবল দিয়েই চলেছে। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার শাসনের সমাপ্তি হয়। ম্যাটিকুলাস ডিজাইনে সব করা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো সেদিন। কিন্তু তিনি ভারতের কারণেই বেঁচে যান।
৫ আগস্ট থেকে এখনো তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। ভারত ফিরিয়ে দেয়নি। ২৪ এও না, ৭৫ এও না।
১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবর রহমানের মেয়ে শেখ হাসিনাকে এক ফোনে আশ্রয় দিয়েছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধী।
দিনটা ছিল ১৫ই অগাস্ট। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে মাত্র ৪ বছর। ঢাকায় ধানমন্ডির বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে খুন করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালও নিহত হয়েছিলেন ঘাতকের বুলেটে।
বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে – শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা – তখন বিদেশে, ফলে এই দু’জন বেঁচে যান প্রাণে।
১৯৭৫-এ শেখ মুজিব হত্যার সময় জার্মানিতে ছিলেন শেখ হাসিনা।
ইন্দিরা গাঁধীর দফতরে ফোন করে হাসিনা ও তাঁর বোনকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার আর্জি জানান জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত।
সব শুনে তখনই শেখ হাসিনা, তাঁর স্বামী ও বোন রেহানাকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়ে যান ইন্দিরা গাঁধী।
শেখ হাসিনা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন সবসময়। শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ” সেই সময় (১৯৭৫) মিসেস গাঁধী তৎক্ষণাৎ বার্তা দিয়েছিলেন যে তিনি আমাদের নিরাপত্তা ও আশ্রয় দিতে চান। বিশেষ করে যুগোস্লাভিয়ার মার্শাল টিটো এবং মিসেস গান্ধী। আমরা সিদ্ধান্ত নি এখানে আসার। কারণ আমরা ভেবেছিলাম আমরা যদি দিল্লি যেতে পারি, সেখান থেকে আমাদের দেশে ফিরে যেতে পারব। আমরা যখন দিল্লিতে ফিরে আসি, প্রথমে একটা বাড়িতে আমাদের রাখা হয়েছিল। সমস্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। কারণ তাঁরাও আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল।”
১৯৭৫ সালের ২৪ শে অগাস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন শেখ হাসিনা। তখন প্রায় ৬ বছর ভারতে থেকেছিলেন তিনি।
তারপর গুণে গুণে ২৪ এর ৫ আগস্ট থেকে ২৬ এর ১৯ মে’ হয়ে গেলো। শেখ হাসিনা ভারতে আছেন।
এমন প্রতিবেশি আর পাওয়া যাবে ভারতের মতো?
লেখক তসলিমা নাসরিন বলেন, “শেখ হাসিনা ভারতের অতি সম্মানিত রাষ্ট্রীয় অতিথি। ভারত তাঁকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিচ্ছে, তাঁর ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিয়েছে। দিনে সম্ভবত কোটি টাকা খরচ হয় তাঁর পেছনে। ভারতের মানুষ হাসিনাকে শ্রদ্ধা করেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন হাসিনার বিপরীতে আছে ইসলামী অপশক্তি”।
তারপরেই শেখ হাসিনার কিছু ভুলের কথাও তিনি ফেসবুকে তাঁর লেখায় তুলে ধরেন।
বলেন, “সাধারণ মানুষ জানেন না শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন অবস্থায় ইসলামকে কীভাবে ব্যবহার করেছেন, মৌলবাদিদের কীভাবে মাথায় তুলেছেন, কত শত মসজিদ মাদ্রাসা বানিয়েছেন, মাদ্রাসার ডিগ্রিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির সমমানের করেছেন, আর কত শত জিহাদির জন্ম দিয়েছেন! জানেন না তাঁর শাসনামলে সংখ্যালঘু হিন্দু কিভাবে নির্যাতিত হয়েছে, এবং কত শত হিন্দু নিরাপত্তার অভাবে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে”।
তারপর বলেন ভারত কীভাবে আশ্রয় দিয়েছে। এমন প্রতিবেশি পাওয়া যায় না।
“আওয়ামী লীগের সংকটকালে লীগের শত শত মুসলিম-সদস্যকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে, এঁদের অনেকে হয়তো হিন্দু বিদ্বেষী, এবং ভারত বিদ্বেষী। যে উদারতা শেখ হাসিনা এবং তাঁর দলের প্রতি ভারত দেখিয়েছে, তা ঠিক কতদিন অবধি তাঁরা মনে রাখবেন আমি জানিনা।
৭১ এ ভারত বাঙালির পাশে দাঁড়িয়েছিল, ২০২৪’এর সংকটেও পাশে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনা আর কখনও হয়তো বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসবেন না, এমন অনুমান করেও ভারত তার সাহায্যের হাত গুটিয়ে নেয়নি। প্রতিবেশি রাষ্ট্রের প্রতি এমন সহানুভূতি এবং সহমর্মিতা আমরা আজকাল খুব একটা দেখি না কোথাও”!
