ঢাকা: ধর্ষণ, মব, খুন দেশে কেবল এগুলোই ঘটে চলেছে। দুই একটা গ্রেপ্তার করে দেখানো হয়। কিন্তু আইনের শাসন যদি কঠোর হয় তাহলে সমাজে এইসব হওয়ার সুযোগ থাকে না।

সদ্য জন্ম হওয়া নবজাতক এবং ৯০ বছরের বৃদ্ধা কেউ এই ধর্ষকদের হাতে থেকে বাঁচে না। এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের পরিস্থিতি।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর দ্বিখণ্ডিত করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

রাজধানীর মিরপুরের সেকশন-১১ এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে (৭) হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী।

শিশু রামিসাকে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। মঙ্গলবার সকালে ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় প্রতিবেশী সোহেল (৩২) ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রামিসা বাবা-মায়ের সঙ্গে ওই বাসার তৃতীয় তলায় থাকত। তৃতীয় তলায় আরও দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর একটিতে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না থাকেন।

আরেকটিতে যারা ভাড়া থাকেন, তারা ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে গেছেন। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শুধু চাঞ্চল্য নয়, শোকে কাতর হয়ে পড়েছে মানুষ।

ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট ও এসবি সদস্যরা উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকাল প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে পাঠানোর জন্য রামিসাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে তার মা। পুরো ভবনের কোথাও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।

একপর্যায়ে যে ফ্ল্যাটে রামিসাকে  হত্যা করা হয়েছে, সেই ফ্ল্যাটের বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার জুতা দেখতে পায় তার মা। তখন সোহেলের বাসায় নক করতে থাকেন মা। কিন্তু ভেতর থেকে কেউ দরজা খুলছিল না।

বহু সময় ধরেও দরজা না খোলায় শিশুটির মা প্রতিবেশীদের নিয়ে আবারও নক করেন। কিন্তু এরপরও দরজা খুলছিল না।

পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশের একটি টিম ওই বাসায় যায় এবং দরজায় নক করে। একটা পর্যায়ে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না দরজা খুলে দেন।

এ সময় ভেতরে ঢুকে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ দেখতে পায় পুলিশ ও নিহতের পরিবার। এবং সোহেলের খাটের নিচ থেকে শিশুটির মুণ্ডহীন দেহ ও রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়। নির্মম হত্যাকাণ্ড।

বাথরুমের বালতির ভেতর থেকে মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।‌

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *