চট্টগ্রাম: সেই ২০২৪ এর আগষ্টের পর এই প্রথম সম্ভবত চট্টগ্রামে আওয়ামীলীগপন্থী আইনজীবীরা একটি বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করতে সক্ষম হলেন চট্টগ্রাম আদালত ভবন প্রাঙ্গনে।
শুধু তাই নয় তারা বৃহস্পতিবারে (২১ মে) অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বয়কটের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন।
গত চব্বিশের আগষ্টে কথিত ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আইনজীবীরা বলতে গেলে একপ্রকার বন্দী অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন।
বিশেষ করে সনাতনী সম্প্রদাযের আইনজীবীরা বেশি বেকায়দায় রয়েছেন। কোন কিছু হলেই তাদেরকে ‘ভারতের দালাল’,‘ইসকনের অনুচর’ ইত্যাদি ট্যাগ লাগিয়ে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
আর এই হয়রানীর পেছনে জামায়াত-বিএনপিসহ ইসলামী জঙ্গীবাদের অনুসারি আইনজীবীরাই সবচেয়ে বেশি উগ্রতা দেখাচ্ছে।
তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য গত ৪ মে আবেদনপত্র বা ফরম তুলতে গিয়েছিলেন।
কিন্তু তাদেরকে বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা তা সংগ্রহ করতে দেয়নি বলে অভিযোগ আওয়ামীপন্থীদের।
পাশাপাশি আইনজীবীদের নির্বাচন কমিশনারের চরম অসহযোগিতার অভিযোগও করেছেন এসব আইনজীবী।
ফলে বাধ্য হয়ে বুধবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ ‘অগনতান্ত্রিক’ ও ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়ে তা বয়কটের আহ্বান জানিয়ে কালো পতাকা মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর ঠিক একদিন আগেই বুধবার (২০ মে) দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম আদালত ভবন চত্বর ও আশপাশ এলাকায় তারা ‘সাধারণ আইনজীবী পরিষদ’র ব্যানারে এ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
মিছিল থেকে আইনজীবীদের নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানানো হয়।
এসময় অংশগ্রহণকারীরা ‘ভোট চোর, ভোট চোর’, ‘বিএনপি ভোট চোর’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। আয়োজকদের দাবি, মিছিলে প্রায় তিন শতাধিক আইনজীবী অংশ নেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন, ‘সাধারণ আইনজীবী ফোরাম’র সভাপতি পদপ্রার্থী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ, আয়ুব খান, অশোক কুমার দাশ, বজলুর রশিদ মিন্টু, মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, শাহরিয়ার তানিম এবং আনসার উল্লাহ সৌরভসহ আরও কয়েকশ আইনজীবী।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ আইনজীবীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তারা এ পরিস্থিতিকে ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানান।
এছাড়াও তারা বর্তমান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে নির্বাচন বাতিল, নতুন তফসিল ঘোষণা এবং সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানান।
