ঢাকা: আব্দুল্লাহ নামে দশ বছর বয়সি ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কোথা থেকে? সেই আবারো মাদ্রাসা!
ধর্ষণ করা হয়েছে তাকে। পায়ুপথে অস্বাভাবিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ময়নাতদন্ত লাগবে না, সারা দেশ জানে, রাষ্ট্র জানে, সরকার জানে যে মাদ্রাসায় শিশুগুলোকে ধর্ষণ করা হয় তারপর হয়তো মেরে ফেলা হয়। কখনো হুমকি ধামকি দিয়ে রাখা হয়।
মাদ্রাসা হচ্ছে বোমা তৈরির কারখানা, ধর্ষণের কারখানা, জঙ্গীর জায়গা। এখানে ধর্মের নামে লেবাসধারীরা অধর্ম করে বেড়ায়। কিছু কিচ্ছু বলে না। বললেই ইসলাম বিরোধী ট্যাগ দেয়া হয়।
গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বনশ্রী সি ব্লকের আলোকিত কোরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
‘সংবাদ পেয়ে মাদ্রাসার বাথরুমে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ওই ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।’
রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা মনে হলেও পায়ুপথ অস্বাভাবিক পরিলক্ষিত হওয়ায় বলাৎকার হয়েছে, এরপর আত্মহত্যা করতে পারে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে। নিহতের স্বজনদের সংবাদ দেওয়া হয়েছে। নিহতের বাবা প্রবাসে থাকেন।’
এইসব মাদ্রাসা যেন বন্ধ হয়, তা নিয়ে বহুবার লেখালেখি করেছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।
হয়ে যাওয়া এই ঘটনারও তীব্র বিরোধিতা করেন।
“ঢাকার রামপুরায় বনশ্রীর সি ব্লকের তিন নম্বর রোডে আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার তৃতীয় তলা থেকে দশ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আবদুল্লার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তার পায়ুপথে জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি শিশুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, পুরো সমাজের নৈতিক ব্যর্থতার প্রতীক”।
তসলিমা লেখেন, “বাংলাদেশের আবাসিক মাদ্রাসাগুলো থেকে শিশু নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, বলাৎকার, এমনকি হত্যার খবর বারবার আসছে। সত্যি বলতে, প্রতিদিন আসছে।
সমস্যা কিন্তু শিক্ষকেরা নন শুধু। সমস্যা হলো একটি অস্বচ্ছ, জবাবদিহিহীন, ভয়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি—যেখানে শিশুরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ক্ষমতাবান শিক্ষকদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। অনেক শিশু বছরের পর বছর নির্যাতনের শিকার হয়, কিন্তু ভয়, লজ্জা, ধর্মীয় ভীতি এবং সামাজিক চাপে মুখ খুলতে পারে না।
শিশুরা সেখানে শিক্ষা পেতে যায়, কিন্তু অনেকেই ফিরে আসে মানসিক ট্রমা নিয়ে। কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে ওঠে, কেউ কেউ সহিংসতার সেই চক্রের অংশ হয়ে যায়।
একজন শিক্ষক গ্রেপ্তার হলেই সমস্যার সমাধান হয় না। প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থার স্বাধীন তদন্ত, আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কঠোর নজরদারি, শিশু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন, এবং শিশুদের নিরাপত্তাকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের “সম্মান”-এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা।
যে সমাজ শিশুদের চিৎকার শুনেও নীরব থাকে, সেই সমাজ বর্বর সমাজ। মাদ্রাসা হোক, স্কুল হোক, আশ্রম হোক, অনাথাশ্রম হোক—যে কোনও প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে নির্মমভাবে কঠোর হতে হবে। শিশুদের জীবন কোরান হাদিসের চেয়ে মূল্যবান।
শেষ কথাটি এবং সবচেয়ে জরুরি কথাটি বলছি, আল্লাহ নামক রূপকথা আর রসুলের বর্বরতা পড়ানোর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনও প্রয়োজন নেই। মাদ্রাসা নামক অসুস্থতা আর অশ্লীলতা চিরতরে বন্ধ হোক”।
