ঢাকা: পাকিস্তানে ফিরছে হিন্দু নাম! আশ্চর্য মনে হচ্ছে বটে তবে এটাই সত্যি। এই ঘটনা নিয়ে এবার বাংলাদেশকে খোঁচা দিলেন লেখক তসলিমা নাসরিন।

ইসলামপুর হল কৃষ্ণনগর, মুস্তাফাবাদ এখন ধর্মপুরা! এলাকার ইসলামীয় নাম পাল্টে হিন্দু-শিখ-জৈন নাম ফেরাচ্ছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের লাহোরে অনেক এলাকার নাম বদলে আগের পুরোনো হিন্দু নাম ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং অতীত ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভাবতে অবাক লাগছে বটে বিষয়টা। তবে ধীরে ধীরে সব পাল্টাচ্ছে মনে হয়।

স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর এতবড় পদক্ষেপের খবর প্রকাশ্যে এলো। বিষয়টা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, বাংলাদেশও ধীরে ধীরে বুঝবে।

লাহোরের এই পুরোনো রূপ ফিরিয়ে আনার মূল উদ্যোগ নিয়েছেন পাঞ্জাবের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ। গত মার্চ মাসে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি লাহোরের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস পুনরুজ্জীবিত করার এই সিদ্ধান্ত নেন। এরপরেই দ্রুততার সাথেই শুরু হয়ে যায় নাম পরিবর্তনের কাজ।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে লাহোরের ‘ইসলামপুর’ এলাকার নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘কৃষ্ণনগর’, ‘সুন্নত নগর’-এর নাম পরিবর্তন করে করা হয়েছে ‘সন্ত নগর’।

‘মৌলানা জাফর চক’-এর নতুন নাম হয়েছে ‘লক্ষ্মী চক’, আরো যেমন ‘বাবরি মসজিদ চক’ বদলে করা হয়েছে ‘জৈন মন্দির চক’।

‘মুস্তফাবাদ’ আর নয় এখন পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ধর্মপুরা’। শুধু হিন্দু নামই নয়, ব্রিটিশ আমলের বেশ কিছু পুরোনো নামও ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

যেমন—‘স্যার আগা খান চক’-এর পরিবর্তে ‘ডেভিস রোড’, ‘আল্লামা ইকবাল রোড’-এর বদলে ‘জেল রোড’, ‘ফাতিমা জিন্নাহ রোড’-এর জায়গায় ‘কুইনস রোড’ এবং ‘বাগ-ই-জিন্নাহ’ রাস্তার নাম বদলে ‘লরেন্স রোড’ রাখা হয়েছে।

গবেষকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, গঙ্গা রাম হাসপাতাল বা লক্ষ্মী চকের মতো নামগুলো লাহোরের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

পাকিস্তানের এই অতীত আঁকড়ে ধরাকে প্রশংসা করলেন তসলিমা নাসরিন এবং সাথে বাংলাদেশকে দিলেন খোঁচা।

তিনি তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন:

“পাকিস্তান অতীত আঁকড়ে ধরছে, বাংলাদেশ অতীতকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। পাকিস্তান ইসলামীয় নাম থেকে সরছে, বাংলাদেশ ইসলামীয় নামের দিকে ধাবিত হচ্ছে”।

তসলিমা লেখেন: “লাহোরে শুরু হয়েছে অতীতের সাংস্কৃতিক পরিচয় পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ। ইসলামীয় নামের পরিবর্তে পুরোনো হিন্দু, শিখ, জৈন নাম এবং ঔপনিবেশিক আমলের নাম ফিরিয়ে আনছে প্রশাসন।

ইসলামপুরা এলাকার নাম আবার কৃষ্ণনগর করা হয়েছে। বাবরি মসজিদ চকের নাম পরিবর্তন করে জৈন মন্দির চক এবং সুন্নত নগরের নাম পুনরায় সন্ত নগর করা হয়েছে। মুস্তাফাবাদের নাম আবার ধরমপুরা করা হয়েছে। মৌলানা জাফর আলি খান চকের নাম আগের লক্ষ্মী চক করা হয়েছে। স্যার আগা খান রোডের নাম এখন ডেভিস রোড। ফাতিমা জিন্না রোডের নাম কুইন্স রোড করা হয়েছে।

আর বাংলাদেশের মোল্লারা বলছে বাংলাদেশের আমের নামগুলো হিন্দু নাম, এসবকে মুসলমান বানাতে হবে। তারা গোপালভোগ আমের নাম দিয়েছে সুলতানি আম, মোহনভোগ আমের নাম দিয়েছে আকবরি আম, কালিভোগ আমের নাম নূরানি আম, লক্ষণভোগ আমের নাম জালালি আম”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *