ঢাকা: জন অর্থের অপচয় আর কতদিন হবে, আর কীভাবে হবে?

পাসপোর্ট থেকে মুছে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু, যুক্ত হচ্ছে শিবিরের শাবক আবু সাঈদ। দুই বাহু প্রসারিত ছবি যুক্ত হচ্ছে।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা সেতু), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, নৌকাসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ছবি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির এবং মেহেরপুরে মুজিবনগর সরকারের স্মৃতিসৌধের ছবি বাদ যাচ্ছে৷

এবং নতুন করে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা ছবি৷

ঐতিহাসিক বঙ্গভবন, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) জামদানি শাড়ি, জাতীয় ফল কাঁঠাল, জাতীয় মাছ ইলিশ, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত (নৌকা বাদে), মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, ঢাকার ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল, কুমিল্লার শালবন বিহার, বান্দরবানের নীলগিরি পর্বত, রাজশাহীর আমবাগান, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক পানাম নগরীর ছবি৷

পাসপোর্টের এই বদল নিয়ে ক্ষুব্ধ সাংবাদিক আনিস আলমগীর।

তিনি একে নাটক এবং অর্থের অপচয় বলেই উল্লেখ করেছেন।

আনিস আলমগীর ফেসবুকে লিখেছেন:

“পাসপোর্ট বদলের নাটক: জন অর্থের অপচয় আর কত দিন?

জলছাপ থেকে আগের সরকারের আমলে হওয়া বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ঐতিহাসিক স্থাপনার ছবি বাদ দেওয়া হচ্ছে, যুক্ত হচ্ছে নতুন কিছু ছবি। সেই সাথে ফিরছে “ইসরায়েল ব্যতীত” (Except Israel) শব্দবন্ধ।

কিন্তু একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবলে বোঝা যায়, এসবের বড় অংশই আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং অপ্রয়োজনীয় কাজের খতিয়ান ছাড়া আর কিছুই নয়”।

কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন রেখেছেন তিনি :

১. পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ লেখা থাকা না থাকায় কী আসে যায়?

যাদের পাসপোর্টে এই লেখাটি নেই, তারা কি চাইলেই ইসরায়েল যেতে পারবেন? কিংবা ইসরায়েল কি তাদের ভিসা দেবে?

বাংলাদেশের সাথে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্কই নেই। ফলে পাসপোর্টে এই সিল বা লেখা থাকা না থাকায় বাস্তব ক্ষেত্রে কোনো তফাত গড়ে ওঠে না। তাহলে এই প্রতীকী পরিবর্তনের পেছনে এত আয়োজন কেন?

২. জনগণের টাকার এই শ্রাদ্ধ কেন?

২০২০ সালে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছিল। এখন আবার সরকার পরিবর্তনের পর এই সমস্ত নাটকের জন্য যে বিপুল পরিমাণ প্রশাসনিক ও কারিগরি ব্যয় হবে, তার জোগান আসবে কোথা থেকে?

ঘুরেফিরে সেই জনগণের ট্যাক্সের টাকাই তো অপচয় হবে। দেশের অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে এই ধরনের খরচ কি আসলেই জরুরি ছিল?

৩. উন্নয়ন কি দেশের নাকি কোনো দলের?

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ বা দলীয় কোনো প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছে, তা নাহয় মেনে নেওয়া গেল। কিন্তু মেট্রো রেল, পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মতো মেগা প্রজেক্টগুলোর ছবি কেন বাদ যাবে?

এগুলো কি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অর্জনের অংশ নয়? শেখ হাসিনার আমলে এসবের কাজ হয়েছে বলেই কি এখন আমরা এগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবো?

আমরা কি প্রতিদিন এই মেট্রো রেলে চড়ছি না, পদ্মা সেতু ব্যবহার করছি না? তাহলে পাসপোর্টের জলছাপ থেকে এগুলো মুছে ফেলে কী প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে?

৪. সেই পুরনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বৃত্ত
আজ থেকে ১৭ বছর আগেও এই দেশে ঠিক একইভাবে সরকার পরিবর্তনের পর আগের সরকারের নামফলক ও চিহ্ন মুছে ফেলার রাজনীতি আমরা দেখেছি।

নাম পরিবর্তনের খেলা আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার এই সংস্কৃতি এ দেশের মানুষ আর কত দেখবে?
পুরনো ও জীর্ণ পথ ছেড়ে নতুন সরকারকে অনুরোধ করব- নতুন কিছু করে দেখান।

বিশ্ব বাটপার ইউনূস সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছে, তাই আপনারা বাস্তবায়ন করবেন এটা জরুরী না। পাসপোর্টের ভেতরের ছবি আর শব্দবন্ধ পরিবর্তনের পেছনে সময় ও অর্থ নষ্ট না করে, পাসপোর্টের মান উন্নত করুন, বিশ্ববাজারে এই পাসপোর্টের মান ইউনূস তলানিতে নামিয়ে দিয়ে গেছে।

শেখ হাসিনার আমলে যেসব দেশ সহজে ভিসা দিত- তারা কেন এখন দেয় না- সেটা দেখুন। প্রবাসীদের দুর্ভোগ কমান এবং এয়ারপোর্টে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধের ব্যবস্থা করুন। সেটাই হবে প্রকৃত ‘নতুন কিছু’ দেখানো।

স্মৃতি মুছে ফেলার পুরনো রাজনীতি নয়, বরং জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণের নতুন রাজনীতিই এখন সময়ের দাবি। মনে রাখবেন, উন্নয়ন কোনো দলের একার নয়, তা রাষ্ট্রের সম্পদ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, দেশ গড়ার নতুন পথ দেখান”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *