ঢাকা: বাংলাদেশে ‘ভারত বিরোধিতা’ বিষয়টা দিয়েই যেন পেটে ভাত জোটে জামাত শিবির রাজাকারদের। এই ইস্যু নিয়েই তারা চলেছে। অথচ ভারত প্রতি পদে বাংলাদেশের সাথে আছে, দেশের আপদে বিপদে বরাবরের মতো সবচেয়ে আগে ভারত।
তবে বিরোধিতা রাখে জামাতের দল বিরোধিতার জায়গায়, ফায়দা কিন্তু ঠিক লুটে নেয়। চিকিৎসা করানোর জন্য ভারত, ব্যবসার জন্য ভারত, ভ্রমণে ভারত- চাউলের ভারত, পেঁয়াজে ভারত, পানিতে ভারত, তেলে ভারত!
অবৈধভাবে যারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে বা অবস্থান করছে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। এখন মমতা দিদির সরকার নেই। তাই জামাতের চিড়ডিড়ানি বেড়ে গিয়েছে! (হাহা)
যাইহোক, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ আটকানো বিজেপি-র অন্যতম ইস্যু ছিল বিধানসভা নির্বাচনের ভোটের প্রচারে।
মুখ্যমন্ত্রী হয়েই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত আঁটসাঁট করার অ্যাকশন শুরু করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সীমান্ত, চিকেন নেক সবদিকে কড়া নজর।
এবং পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণভাবে লাগু হয়ে গেল নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ)। বুধবার থেকেই রাজ্যে এই আইন কার্যকর করা হলো বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অর্থাৎ, এদিনটি থেকেই শুরু হচ্ছে অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে তাঁদের নিজের দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া।
থ্রি ডি প্রক্রিয়া অবলম্বন করছেন শুভেন্দু। ডিটেক্ট, ডিলিট, রিপোর্ট। কোনো কোর্ট কাছাড়ি নয়।
দীর্ঘ এক বছর আগে ভারত সরকার সিএএ আইন কার্যকর করার আর্জি জানিয়ে চিঠি দিলেও, পশ্চিমবঙ্গে তা লাগু করেনি তৃণমূল সরকার।
সিএএ নিয়ে তোলপাড় করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ -কত কী দেখা গিয়েছিলো!
বিএসএফের পদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ভারত সরকার অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফ’র হাতে তুলে দেওয়ার জন্য একটি নির্দেশিকা, গত ২০২৫ সালের ১৪ মে পাঠিয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের আগের সরকার একদিকে শরণার্থীদের সিএএ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করেছে, অন্যদিকে ওই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ যা ভারত সরকার দিয়েছিল, তাকে কাজে লাগায়নি।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন , ‘আজ থেকে আমরা এই আইন কার্যকর করলাম। অর্থাৎ, সিএএ-এর আওতায় যারা নেই, তারা হল অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদের রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করবে, ডিটেন করবে এবং হ্যান্ডওভার করবে বিএসএফ’এর কাছে। বিএসএফ তাদের ডিপোর্ট করার ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট।’
উল্লেখযোগ্য যে, সিএএ আইনের অধীনে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে চলে যাওয়া অমুসলিম শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
শুভেন্দু বলেন, ‘ রাজ্যে সীমান্তে ১৬০০ কিলোমিটার ফেন্সিং রয়েছে। বাকি ৬০০ কিলোমিটার ফেন্সিং হয়নি। এরমধ্যে প্রায় ৫৫৫ কিলোমিটারে কাঁটাতার দেওয়ার জমি পূর্বতন রাজ্য সরকার চাইলেই বিএসএফকে দিতে পারত। কিন্তু রাজনৈতিক ও তুষ্টিকরণ জনিত কারণে রাজ্য সরকার সেই জমি দেয়নি।’
শুভেন্দু অধিকারীর দাওয়াইতে বুকে ধড়ফড়ানি বেড়েছে জামাতের।
তবে শুভেন্দু অধিকারী ও ছেড়ে কথা বলেননা।
জামাত ই ইসলামিকে সরাসরি নিশানা করলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়াতে সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে বাংলাদেশের জামাতরা।’
শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম, কংগ্রেস চো টেনশনে আছেই। তার চেয়েও বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা। দেখুন ভাই, আমি ভয় পাই না। তাই ওই সব চেষ্টা করেও লাভ নেই। বিজেপি যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সব পালন করব। আমার কাছে দেশ আগে। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় চিহ্নিত করা হয়েছে। তারপর তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার তাড়িয়ে দেওয়ার পালা।’
