ময়মনসিংহ: আবারো নাকি ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করেছে হিন্দু যুবক। যেখানে অবমাননা না করেই হিন্দুদের মেরে গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে দেয়া হয় সেখানে অবমাননা করলে কী হতে পারে সেটা কি এই সনাতনীরা জানে না?

তাহলে জেনেশুনে কেন তারা আগুনে ঝাঁপ দিতে যাবে? নাহ! আগুনে ঝাঁপ তারা দেয় না, কিন্তু তাদের ধরে বেঁধে আগুনে ঝাঁপ দেয়ানো হয়!

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরআন অবমাননার কথিত অভিযোগে শাওন চন্দ্র দাস (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার  ভোরে ঢাকার তেজগাঁও এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত শাওন চন্দ্র দাস গৌরীপুর উপজেলার মাঝিপাড়া গ্রামের সাধন চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি গৌরীপুর সরকারি কলেজে স্নাতক (অনার্স) পর্যায়ে অধ্যয়নরত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।

তিনি লিখেছেন, “দীপু দাস ঘটেই চলেছে।
এই ছেলেটি কোন ধর্মের অবমাননা করেছে? হিন্দু ধর্মের? খ্রিস্টান ধর্মের? বৌদ্ধ ধর্মের? নিশ্চয়ই এসব ধর্মের অবমাননা করলে কারও কিছু যায় আসে না, কেউ এক পাল হায়েনার মতো কারও ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে না! ছিঁড়ে খাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে না”!

আরো বলেন, “কোন ধর্ম নিয়ে কথা বললে লোকেরা রক্ত নেওয়ার জন্য পাগলা হয়ে ওঠে, কুপিয়ে মারার জন্য উন্মাদ হয়ে ওঠে? ইসলাম ধর্ম। কারণ ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা সভ্য নয়।

তারা গণতন্ত্র মানে না, বাকস্বাধীনতা মানে না, মত প্রকাশের অধিকার মানে না। বাংলাদেশের হিন্দুরা আর যাই করুক, প্রকাশ্যে ইসলাম নিয়ে কথা বলে না।

তারা জানে কথা বললেই তাদের দীপু দাস বানানো হবে। যদিও ভালুকার শ্রমিক দীপু দাস ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোনও কটু কথা বলেনি। কিন্তু বলেছে এই গুজব রটিয়ে দিয়েছিল মুসলমানের বাচ্চারা। কারণ মুসলমানের বাচ্চাদের রক্তে খুন করার ইচ্ছে, হিন্দু হত্যার ইচ্ছে দিনরাত টগবগ করে।

এই ছেলেটি দীপু দাস, সাতক্ষীরার গৌরাঙ্গ সরকার আরেক দীপু দাস। দীপু দাসের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মুসলমান যতদিন মূর্খ রয়ে যাবে, মুসলমানের দেশে দীপু দাসের সংখ্যা বাড়বে বৈ কমবে না”।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শাওন চন্দ্র দাস নাকি পবিত্র আল-কুরআনের ওপর পা রেখে একটি ছবি তুলে তাঁর ব্যক্তিগত ‘ইমো’ আইডিতে প্রকাশ করেন, এমন অভিযোগ ওঠে।

আদৌ এই সাহস কোনো সনাতনীর আছে? কোরানে পা দেবে? ভুয়া অভিযোগ তুলে, জেহাদিদের তো একটাই বিষয়, ধর্ম অবমাননা।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদসহ অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম ও তদন্ত চলমান রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *