মানিকগঞ্জ: হিন্দুরা এই দেশে ব্যবসা করছে আবার মুসলমানের কাছ থেকে বাকি টাকা চাইবার অধিকার তাদের কে দিয়েছে?
হিন্দুরা তো এই দেশে ভাড়াটে। আছে আছে, চলে যেতে বললে চলে যেতে হবে। দেশ তো মোছলমানের তাই না?
যখন ইচ্ছা বাকি খাবে, যখন ইচ্ছা মেরে ফেলবে। সে অধিকার আছে তাদের! তাই তো বাকির ২০ টাকা চাওয়ায় হিন্দু ব্যবসায়ীকে গলা চিপে, অন্ডকোষে কষে লাত্থি মেরে জীবন নিয়ে নেয়া হলো!
এইতো হিন্দুরা ভালো আছে বাংলাদেশে।
মানিকগঞ্জে পান বিক্রেতা শ্রীবাস চন্দ্র সাহা পান বিক্রির বাকী ২০ টাকা চাওয়ায় ইশা মোল্লা তাঁকে একদম প্রকাশ্যে ভয়ডরহীন সবার সামনে গলা টিপে হত্যা করেছে।
পুলিশ বলেছে- “আমরা ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সামাজিকভাবে আপনার জীবনের দাম কত কম আশা করি তা বুঝতে পারছেন।
এইযে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটা মানুষকে নির্মম ভাবে মেরে ফেলা হলো অথচ কোন টু শব্দ নেই কোথাও ! হিন্দু বলে??
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পান বিক্রি করেন শ্রীবাস চন্দ্র সাহা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, খুনী ইশা মোল্লা শ্রীবাস সাহার কাছ থেকে প্রায়ই বাকিতে পান নেন।
শ্রীবাস চন্দ্র সাহা তাকে হাত জোড় করেও বলেন অন্য দোকানে যেতে। তবে ইশা মোল্লা আবারো পান নিতে আসেন। ৩০ টাকার পান তিনি ১০ টাকা দেন।
বাকি ২০ টাকা চাইলে ইশা মোল্লা শ্রীবাস সাহাকে প্রথমে গলা চেপে ধরেন এরপর অন্ডকোষ বরাবর লাথি মারেন। সাথে সাথে মৃত্যু হয় শ্রীবাস চন্দ্র সাহার।
একটা কথা শোনা যায় এই দেশে সংখ্যালঘুরা নাকি অত্যন্ত আমোদে আছে। এই হলো আমোদ, সুখ, শান্তি।
শ্রীবাস চন্দ্র সাহার বয়স (৫৫)। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে উপজেলার জয়মণ্টপ ইউনিয়নের জয়মণ্টপ মাছবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রীবাস চন্দ্র সাহা ঢাকার সাভারের মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জয়মণ্টপ মাছবাজারে পান ব্যবসা করে আসছিলেন।
