ঢাকা: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর সীমান্ত সুরক্ষায় দ্বিগুণ কড়া নজরদারির বিষয়টা উঠে এসেছে। এতদিন বিগত তৃণমূল সরকার বিষয়টা নিয়ে অন্ধের মতো ছিলো বলা যায়।

বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে যারা ভারতে যায়, অবস্থান নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত সরকার। পশ্চিমবঙ্গসহ আসাম এবং অন্যান্য রাজ্যগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে অনুপ্রবেশকারী রুখতে।

এতে জামাতের চিড়বিড়ানি অবশ্য মারাত্মক বেড়ে গিয়েছে। সীমান্তে কাঁটাতার দেবে ভারত, এটা দিতেই পারে। সমস্যা কী? কিন্তু বলল, রাজাকার জামাতের তাতেই সমস্যা। প্রতিবাদে নেমে গেছে জামাত। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেই না সীমান্ত সুরক্ষায় কথা মুখে বলেছেন, অমনি হাত পা ছুঁড়তে শুরু করে দিয়েছে পাকিস্তানের বীজ জামাত।

এবার অনুপ্রবেশ রুখতে ভারত সরকারের তরফ থেকে নেওয়া হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তে আরও আঁটসাঁট নিরাপত্তার লক্ষ্যে এবার ‘স্মার্ট বর্ডার’ চালু করতে চলেছে মোদি সরকার।

শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বিএসএফের বার্ষিক রুস্তমজি মেমোরিয়াল অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একথা জানান।

স্মার্ট শব্দটা এতদিন আমরা শুনে এসেছি অন্য ক্ষেত্রে। স্মার্ট কার্ড, স্মার্ট সিটি। তবে এই স্মার্ট যুক্ত হচ্ছে এবার সীমান্তে।

কারণ প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তে জওয়ান মোতায়েন অসম্ভব। তাই জওয়ানদের নজরদারির পাশাপাশি ‘স্মার্ট বর্ডারে’র মাধ্যমে সীমান্তে ব্যবহার করা হবে ড্রোন, হাই রেজলিউশন ক্যামেরা এবং অন্যান্য মনিটরিং ডিভাইস।

ডিভাইস কাজ করবে এখন থেকে।

বিএসএফ জওয়ান ছাড়াও সেখানে থাকবে উন্নত মানের ড্রোন। স্মার্ট বর্ডার প্রকল্পটি বর্তমানে কমপ্রিহেনসিভ ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এই সিআইবিএমএস আসলে অত্যাধুনিক স্মার্ট ফেন্সিং প্রকল্প।

দিন-রাত নজরদারির উপযোগী সিসিটিভি, থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা থাকবে—যা অন্ধকার, কুয়াশা বা ঘন জঙ্গলের মধ্যেও মানুষের শরীরের তাপমাত্রা মাপতে পারবে।

পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে বিএসএফকে যোগাযোগ করতে ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন অমিত শাহ।

অমিত শাহ বলেন, “আগামী এক বছরের মধ্যে স্মার্ট বর্ডারের কাজ শুরু হবে। তার ফলে সীমান্তগুলিকে দুর্ভেদ্য করে তোলা সম্ভব হবে। জনবিন্যাস পরিবর্তনের যে ব্যর্থ চেষ্টা চলছে, তাতেও লাগাম টানা সম্ভব হবে।”

অমিত শাহ আরও বলেন, “ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সরকার অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কেন্দ্রের নীতির সঙ্গে একমত। প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে বহিষ্কারের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *