বাংলাদেশের নানা প্রান্তে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শারীরিক শাস্তি, যৌন নিপীড়ণসহ ধর্ষণের শিকার হচ্ছে অসংখ্য শিশু।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শাস্তির একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে কোথাও বেত্রাঘাত, কোথাও কান ধরিয়ে ওঠবস, আবার কোথাও কান ছিঁড়ে দেওয়া বা যৌন নিপীড়নের দৃশ্যও।

এসব অপরাধের কিছু কিছু প্রকাশ হয়, আবার অধিকাংশই রয়ে যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে। বিশেষ করে যৌন নিপীড়নের বিষয়গুলোকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে-লজ্জায় অনেকে চেপে যেতে চান। একান্তই নিরুপায় না হলে তারা কেউ উচ্চবাচ্য করেন না। ফলে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের মাত্র বেড়েই চলেছে।

অথচ আজ থেকে ১৫ বছর আগে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি আইনত নিষিদ্ধ করে একটি নীতিমালা প্রণীত হয় ।

কিন্তু কিন্ডারগার্টেন, কওমি মাদ্রাসাসহ কিছু মাদ্রাসায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির অভাবে শিশুদের যৌন হয়রানি-নির্যাতন ও শারীরিক শাস্তি বন্ধে নীতিমালা কার্যকর হচ্ছে না।

বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলো যেন ছাত্র-ছাত্রী নির্বিচারে যৌন নিপীড়ন-ধর্ষণের ডিপো হয়ে উঠেছে। এসব দাঁড়ি-টুপিওয়ালা বকধার্মিক হুজুরদের বিরুদ্ধে কিছু বললেই বাংলাদেশের ইসলামী চেতনায় চেতিত (!) রাজনৈতিক দলগুলো উল্টো অভিযোগকারিদের বিরুদ্ধে নানাভাবে হয়রানী-হুমকি এমনকি প্রাণনাশেরও হুমকি দিয়ে থাকে ও দিচ্ছে।

সরকার-প্রশাসনও এসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের চোখরাঙানির কাছে জিম্মি হয়ে আছে। যে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে কিছুটা ধর্মনিরপেক্ষতার যে সামান্যতম আবহ ছিল গত চব্বিশের ৫ আগষ্টের পরে তার কিছুটা লেশমাত্র নেই।

শিশু নির্যাতন নিয়ে গবেষণায় ভয়াবহ চিত্র দেখতে পাই আমরা বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও গবেষণা থেকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে, ২০১৯’ এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জরিপ চালানোর আগের এক মাসে ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৮৮ শতাংশ শিশু শারীরিক ও মানসিক শাস্তির শিকার হয়েছে।

এদের মধ্যে ২৫ শতাংশ শিশু মুখ, মাথা, কানে ও ঘাড়ে চড়থাপ্পড়, মারধর ও শরীরে বারবার আঘাতের মতো শারীরিক শাস্তির শিকার হয়।

বয়স ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা শাস্তির শিকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এ বয়সী শিশুদের ৭৬ শতাংশ শারীরিক এবং ৩৩ শতাংশ গুরুতর শারীরিক শাস্তির শিকার হয়।

৫ থেকে ৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে শাস্তির দুই হার যথাক্রমে ৬৭ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ।
গত ২০২৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস (বিইউএইচএস) প্রকাশিত ‘ভায়োলেন্স এগেইনস্ট চিলড্রেন অ্যান্ড ইটস অ্যাসোসিয়েটেড ফ্যাক্টরস ইন আরবান এরিয়া অব ঢাকা, বাংলাদেশ’ শিরোনামের গবেষণায় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারে ৫৮ শতাংশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৬ শতাংশ এবং খেলার মাঠে ৬৫ শতাংশ শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়।

দেশে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার বিষয় উল্লেখ
করলে আমরা শিক্ষাঙ্গনে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ভয়াবহতার কিছু চিত্র দেখতে পাই ।

সম্প্রতি নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীর অসুস্থতা হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা ২৩ এপ্রিল বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

গত ৬ মে বুধবার মামলার আসামি ওই মাদ্রাসার শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশঙ্কার কথা হলো- ক্ষতিগ্রস্থ ঐ মাদ্রাসা ছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষানিরীক্ষা করে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক বিভিন্ন হুমকি পাচ্ছেন ও তাকে নানাভাবে হয়রানি করারও অভিযোগ উঠেছে।

তাহলে বুঝুন ওই বদমায়েশ মাদ্রাসা শিক্ষকের কালোহাত কতটুকু লম্বা। যদিও র্যাাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন বা র্যা বের পক্ষ থেকে ওই চিকিৎসকের নিরাপত্তা বিধানের বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এসব কিছুই শিশু অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ নামক এ ইসলামী রাষ্ট্রটিতে বাস্তব অবস্থা যে ভয়াবহ বেদনাদায়ক পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা ভেতর থেকে না দেখলে ঠিক বোঝা যাবেনা।

আইন ও শালিশ কেন্দ্র (আসক) শিশু ও তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো ধরনের সামাজিক চাপ, ভয়ভীতি বা প্রতিশোধমূলক আচরণ থেকে তাদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

এর আগে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়তেন ওই এলাকার বাসিন্দা শামসুন্নাহার আক্তার জোৎস্নার মেয়ে। পরীক্ষায় নম্বর কম পাওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ওই ছাত্রীকে বেত দিয়ে পেটান বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। ওই ঘটনার পর থেকে মেয়েটি আর কথা বলতে না পারলেও জানান শামসুন্নাহার।

নরসিংদীর শহরের মাদ্রাতুল আনওয়ার আরাবিয়াহ মাদ্রাসায় ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে গোসল করতে না চাওয়ায় বেত্রাঘাতের অভিযোগ ওঠে।

২০২৪ সালের মে মাসে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার আল মঈন ইসলামী একাডেমি মাদ্রাসার টয়লেট থেকে সাত বছর বয়সী শিশু সানিম হোসেনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মায়ের অভিযোগ, পড়া না পারায় শিক্ষকরা তাকে নিয়মিত মারধর করতেন এবং পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখেন।

এ ঘটনায় মাহমুদুর রহমান নামের এক শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই হলো শান্তির ধর্ম ইসলামের অবস্থা। নিশ্চয়ই তাদের সমালোচনাকারিদের বিরুদ্ধে তারা বীরত্বের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমে পড়বেন।

কারণ তাদের কাজতো একটিই- ইসলাম গেলো, ইসলাম গেলো বলে। কিন্তু নিজেরাই ইসলামের চরম অপমান করছেন। ইসলামের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছেন।

কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের মানসিক ও শারিরীক শাস্তি নিষিদ্ধ করে নীতিমালা প্রণীত হলেও তার যথাযথ প্রয়োগ দেখতে পাইনি আমরা।

বাংলাদেশে ২০১১ সালে নীতিমালা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালার শিক্ষার্থীদের শরীরে কোনো কিছু দিয়ে আঘাত বা বেত্রাঘাত করা, চক বা ডাস্টার ছুড়ে মারা, আছাড় দেওয়া, চিমটি কাটা, কামড় দেওয়া, চুল টানা, চুল কেটে দেওয়া, কান টানা, কানে ধরে ওঠবস করানো, রোদে দাঁড় করিয়ে রাখাসহ অন্যান্য শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে, মানসিক শাস্তি যেমন— শিক্ষার্থীদের মা-বাবা, বংশ পরিচয়, গোত্র, বর্ণ, ও ধর্ম সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করা, অশোভন অঙ্গভঙ্গি বা শিক্ষার্থীদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে— এমন সব শাস্তি দিতে নিষেধ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার পরও সেটি অমান্য করলে বা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিক্ষকদের কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার পরিপন্থি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের অসদাচরণের জন্য বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি প্রয়োজনে ফৌজদারি আইনেও ব্যবস্থা নেয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নীতিমালা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও নজরদারি চালায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

কিন্তু গত চব্বিশের ৫ আগষ্ট বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গী ও সামরিক ক্যু এর পর থেকে বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠী, সিনিয়র শিক্ষার্থী এমনকি শিক্ষকদের কাছ থেকেও চরমভাবে মানসিক হয়রানী ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

ফলে অনেক শিক্ষার্থী কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। একধরনের মানসিক ট্রমায় ভুগেছে এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে কোন কোন শিক্ষার্থীর অভিভাবক তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সঙ্গতি অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন।

কিন্তু নিতান্তই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের এসব অভিভাবকদের এখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। তারওপর রয়েছে ভিসা পাওয়ার নানা ঝক্কি ঝামেলা।

আবার ভারতে যাওয়ার পরও বাংলাদেশী পরিচয়ের কারনে সেখানেও একধরনের বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে । অবশ্য এই বৈষম্যটি তৈরী হয়েছে গত চব্বিশের ৫ আগষ্টের আগে-পরে বাংলাদেশের লোকজন যেভাবে ভারত বিরোধী-হিন্দু বিরোধী যে জঘণ্য আচরণ করেছে তারই প্রেক্ষিতে।

কারণ তখন কথায় কথায় – ‘দিল্লী না ঢাকা, দিল্লীর মসনদ ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও’- শ্লোগানে কম্পিত করা হতো বাংলাদেশের রাজপথ। সুতরাং সেটির বিপরীত প্রতিক্রিয়া পড়ছে এখন।

শিশুদের শাস্তি নিষিদ্ধের পরিপত্র সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান তা মানছে না বলে অভিযোগ পাওয়া কথা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রবি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় সব কটিকে তদারকি করার সক্ষমতা সরকারের নেই। তবে শিগগির কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়গুলো আলোচনা করা হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আলিয়া মাদ্রাসা ছাড়া কওমি, হাফেজি ও ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত মাদ্রাসার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক সিনিয়র সচিব এসব মাদ্রাসাকে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিলেও নেতৃত্বের মতভেদের কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। তারমানে কি দাঁড়াচ্ছে?

কওমী মাদ্রাসা-হাফেজি মাদ্রাসাগুলো সরকারি সবধরনের সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও তারা কোন নিয়মকানুন মানতে রাজী নয়।

অথচ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামী জঙ্গী ও ধর্ষক উৎপাদনের কারখানা হিসেবে পরিচিত কওমী মাদ্রাসাগুলোকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছেন তাদের ভোট ও সমর্থনের আশায়।

কিন্তু সেই সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে কওমী হুজুররা পুরো উল্টে গেছে। তারাই বরং গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানে তাদেরই উপাধি দেওয়া ‘কওমী মাতা’র বিরুদ্ধে তীব্র-জঘন্য-অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছে। এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি রোধে হাইকোর্ট ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেল গঠনের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশে অভিযোগ নেয়া ও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়।

কোনো অভিযোগ পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেল কাজ করার কথা। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানেই এখনো যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল নাই। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি কেমন তা নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ ছাত্রীর ওপর ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গবেষণা করেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়কদের মধ্যে ৯ শতাংশই শিক্ষক।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদাকে চৌধুরী বলেন, এমন নয় যে, এ ধরনের ঘটনা নতুন ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। এ ধরনের ঘটনায় আমি ক্ষুব্ধ। আমাদের সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কিত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর যে কোনো নির্যাতন ও নিপীড়ন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন-নীতিমালা আছে কিন্তু কেউ কি তা তোয়াক্কা করছে ? কেন তোয়াক্কা করছে না? কারণ কঠিনভাবে মনিটরিং করা হয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি রোধে হাইকোর্ট সেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশের প্রতিফলন কি আমরা দেখছি? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কেন এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিচ্ছে না? সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ সবাইকে এ বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে। আমি হাইকোর্টের কাছে একটি আবেদন করতে চাই, যাতে আদালত এ বিষয়ে একটি কড়া রুলিং করে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফোরাম ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশের ন্যাশনাল রিপ্রেজেনটেটিভ মঞ্জুশ্রী মিত্র বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত হলে আমরা বিষয়গুলো জানতে পারছি।

এমন ঘটনা নিশ্চয়ই আরও ঘটছে— যা আমরা জানতে পারছি না। আমি বলব, এক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যর বিষয়টিও যুক্ত। যে শিক্ষকরা এ ধরনের কাজগুলো করছে তারা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত।

তারা মানসিকভাবে বিষন্নতা, উদ্বেগ ও হতাশার মধ্যে থাকেন। এই পরিস্থিতি থেকে তারা উত্তরণ করতে পারে না। যার জন্য বিকৃত কিছু রুচির মাধ্যমে তা প্রকাশ পাচ্ছে। পরিবার পর্যায়েও তারা হতাশাগ্রস্ত থাকে। সঠিকভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ হচ্ছে না। মূল্যবোধ, শিশু অধিকার, আইন এই বিষয়ে তাদের ধারণা ও জ্ঞান নেই। আরেকটি বড় বিষয় হলো— শিক্ষকদের কাজের ফলোআপ, তত্ত্বাবধানের বিষয়টি অনুপস্থিত। যে কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলছে।

# ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও নারী অধিকার সংগঠক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *