‘বিশ্ববেহায়া নোবেল লরিয়েট’ ড. মুহাম্মদ ইউনুসের দুঃশাসন আমল আর কথিত ইলেকশনের নামে সিলেকশনের মধ্য দিয়ে গঠিত বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে খুব বেশি তফাৎ কি হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, নিপীড়নের ক্ষেত্রে?

একটি ছিল জোর করে ক্ষমতা দখলকারি সরকার। অপরটি কথিত সিলেকশনের নামে ইলেকশন দেখিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার। সেটি হলো বাংলাদেশের প্রথম সামরিক আইন প্রশাসক মরহুম জেনারেল (ক্যু এর মধ্যে নিহত) জিয়াউর রহমানের সেনাছাউনিতে গড়ে ওঠা দল বিএনপি’র সরকার।

তারই গুণধর পুত্র জনাব তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ইউনূস সরকারের আমলে বাংলাদেশে যে হারে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার-খুন-নির্যাতন-নিপীড়ন-চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, জেলে ঢুকানো হয়েছে এমন বোধ হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে আর হয়নি।

যদিও ২০০১ এর ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বাপর সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে হারে নির্যাতন করা হয়েছে সেটিকেও সম্ভবত হার মানিয়েছে।

তখন অন্তত সংবাদমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করতে পেরেছেন সাংবাদিকগণ, বিভিন্ন কলাম লেখক, মানবাধিকার সংগঠকগণ এ বিষয়ে লিখতে পেরেছেন, সমালোচনা করতে পেরেছেন।

মানব বন্ধন-বিক্ষোভ সমাবেশ অন্তত করার মত পরিস্থিতি ছিল। যদিও সেখানে নানা বাধাবিপত্তি-হুমকি-ধামকি, মামলা, গ্রেপ্তার-কারাবন্দী ইত্যাদি ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এই চরম সাম্প্রদায়িক ও ভারতবিদ্বেষী ইউনুস ও তার বশংবদ গোষ্ঠী সরকারের সময়তো হিন্দুরা কোন কথাই বলতে পারেনি। কথা বলতে গেলে প্রতিবাদ করতে গেলেই খড়্গহস্ত নেমে এসেছে।

যাও কিছুটা কথা বলতে, প্রতিবাদ করতে মাঠে নেমেছিলেন চিন্ময় দাস নামে এক গৃহত্যাগী সাধুর নেতৃত্বে মঠ-মন্দিরের সাধু সন্ন্যাসীগণ ও এ দেশের সাধারণ হিন্দু সমাজ। কিন্তু সেটিকেও প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিল ওই ‘মার্কিন ডিপষ্টেট’ ও ‘ইউনুসের মেটিক্যুলাস ডিজাইন’ এর ষড়যন্ত্রকারিরা।

তাদের মনে ভয় ঢুকেছিল যে, এই হিন্দুদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আবার হয়তো ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ’ দেশের মধ্যে ঢুকে পড়লো !

কারণ তাদেরকে সারাক্ষণই শেখ হাসিনা ফোবিয়া ও আওয়ামী ফোবিয়া তাড়া করে বেড়াচ্ছে। আর তাই চিন্ময় সাধুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হলো। বিনাবিচারে আটক করে রাখা হলো। কোনভাবেই তাঁর জামিন দেয়া হচ্ছেনা।

ভয় একটাই- চিন্ময় হয়তো মুক্ত বাতাস নিতে পারলে আবারো হিন্দু অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠবে হিন্দু লোকজন। অত্যাচারিদের তখৎ-তাউস তখন ভেঙ্গে পড়তে বাধ্য।

কোনভাবে যদি শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগ দেশে ঢুকে যায় তাহলে তাদের মানে যারা সেই জুলাই-আগষ্টে আন্দোলনের নামে দেশটিকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে তাদের রেহাই নেই। কারণ এমনিতেই দেশের মানুষ ক্ষেপে আছে, অসন্তোষ বিরাজ করছে মানুষের মনে প্রচণ্ড রকমের।

রিকসা, বেবিট্যাক্সি, দিনমজুর, কৃষকসহ সাধারন খেটে থাওয়া নিম্ন ও মধ্যবিত্তের মধ্যে সেই ক্ষোভ দানা বাঁধছে ক্রমশ। তারা শুধু একটু সঠিক দিকনির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

অতিসম্প্রতি বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, সহিংসতা এবং নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ ’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে , ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার মাসে দেশের ৬২টি জেলায় অন্তত ৫০৫টি সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

৮৯ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়; বরং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বৈষম্য, ভয়ভীতি, ধর্মীয় নিপীড়ন, জমি দখল এবং বিচারহীনতার ধারাবাহিক প্রতিফলন।

তবে এইচআরসিবিএম যে রিপোর্ট তৈরী করেছে ঘটনার ভয়াবহতা আরো অনেক বেশি। কারন সব খবর কিন্তু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়না, বা অনেকে তা প্রকাশও করতে ভয় পান। সুতরাং ভেতরে ভেতরে গুমড়ে কাঁদে সংখ্যালঘুরা।

কিন্তু তাদের এই কান্না দেখার কেউ নেই। তেমনি নেই কেউ তাদের কান্না থামানোর। কারন সে সদিচ্ছাই কারো নেই এই দেশে। কোনভাবে বরং এদেরকে তাড়াতে পারলে মুসলমানদের ষোলকলা পূর্ণ হয় যেনো।

তারমানে যে চার মাসের কথা বলা হচ্ছে এইচআরসিবিএম এর রিপোর্টে তার প্রথম দেড় মাসতো সেই ইউনুসীয় সরকারের সময়কার।

আর বাকি আড়াইমাস নতুন বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়কালের ঘটনা। তারমানে অনির্বাচিত বা নির্বাচিত সরকার যেই হোক না কেন সব সরকারই সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন। কারন তারা মুখে যতই অসাম্প্রদায়িকতার সাফাই গাক না কেন ভেতরে ভেতরে এমনকি প্রকাশ্যেও তাদের কর্মকাণ্ড চরম সাম্প্রদায়িক।

এইচআরসিবিএম এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার মাসে নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪৪টি শারীরিক হামলা ও অপহরণ, ১৩২টি জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট, ১০০টি হত্যা বা রহস্যজনক মৃত্যু এবং ৯৫টি মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা। এছাড়া ২৮টি ধর্ষণ ও গণধর্ষণের অভিযোগও নথিভুক্ত হয়েছে।

সংস্থাটির দাবি, সহিংসতা দেশের নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের প্রায় সব বিভাগেই সংখ্যালঘুরা হামলার শিকার হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে, যেখানে ১১৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে ঢাকা বিভাগে ৯৪টি, খুলনায় ৮৪টি এবং রংপুর বিভাগে ৬৭টি ঘটনা।

প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম, খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, কক্সবাজার, কুমিল্লা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, ফরিদপুর ও পটুয়াখালীকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের “হটস্পট” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা:

প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে মন্দির, প্রতিমা ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার বিবরণ।

এইচআরসিবিএম জানিয়েছে, চার মাসে অন্তত ৯৫টি ঘটনায় মন্দিরে ভাঙচুর, প্রতিমা ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ এবং ধর্মীয় সম্পত্তি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাদারীপুরে রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, বরিশালে প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো দুর্গামন্দির ভেঙে ফেলা, কুমিল্লায় প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো কালীমন্দির ধ্বংস, গোপালগঞ্জে দুটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ এবং সিলেটে গৌর-নিতাই মন্দিরে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া ফরিদপুর, খুলনা ও নীলফামারীতেও কালীমূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, এসব হামলা শুধু ধর্মীয় স্থাপনার ওপর আঘাত নয়; বরং সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব এবং সামষ্টিক নিরাপত্তাবোধের ওপরও আঘাত।

সংবাদের দ্বিতীয় অংশ…

জমি দখল ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ:

প্রতিবেদনে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে জমি দখল, ফসল নষ্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়েছে।

কক্সবাজার, রংপুর, নেত্রকোনা ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু পরিবারকে ভয় দেখিয়ে জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এইচআরসিবিএম বলছে, সংখ্যালঘু পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া এবং এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

দীপু দাসকে জ্বালিয়ে হত্যা, তাতে ইন্ধনদাতা ময়মনসিংহের এই ব্যক্তি

প্রতিবেদনে বলা হয়, সহিংসতার সঙ্গে প্রায়ই জমি বিরোধ, ব্যবসা ধ্বংস, লুটপাট এবং কৃষিজমি দখলের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

নারী ও শিশুদের বাড়তি ঝুঁকি:

সংখ্যালঘু নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ২৮টি যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।

অনেক ঘটনায় স্কুল ও কলেজপড়ুয়া ছাত্রীদের অপহরণ, নিখোঁজ হওয়া, জোরপূর্বক বিয়ে এবং ধর্মান্তরের অভিযোগও উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনা নারী ও শিশুদের শারীরিক নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং বিচার পাওয়ার অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এছাড়া প্রবীণ ব্যক্তি, বিধবা নারী, প্রতিবন্ধী মানুষ, শিক্ষক, শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী এবং পার্বত্য অঞ্চলের চাকমা, ত্রিপুরা ও ম্রো সম্প্রদায়কেও ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিচারহীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার অভিযোগ:

প্রতিবেদনের একটি বড় অংশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এইচআরসিবিএম -এর দাবি, অনেক ঘটনায় পুলিশি তদন্তে বিলম্ব, সঠিক মামলা গ্রহণে অনীহা, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংরক্ষণে ব্যর্থতা এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংস্থাটির মতে, অনেক পরিবার মামলা চালিয়ে যেতে ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়েছে। কিছু ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার বা দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, দুর্বল ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়, অনাস্থা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর করছে।

দীর্ঘ ইতিহাসের ধারাবাহিকতা:

এইচআরসিবিএম বর্তমান পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরবর্তী বিভিন্ন সময়েও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা সহিংসতা, উচ্ছেদ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।

সংস্থাটির দাবি, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা বাড়লেও সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যার হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৪৬ সালে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হার প্রায় ৩০ শতাংশ থাকলেও ২০২০ সালে তা ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

এইচআরসিবিএম এর মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে দীর্ঘদিনের ভয়ভীতি, সহিংসতা, জমি দখল এবং দেশত্যাগে বাধ্য হওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান:

প্রতিবেদন প্রস্তুতে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য, হাসপাতালের নথি, পুলিশ ডায়েরি, সংবাদ প্রতিবেদন এবং স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনের শেষাংশে বাংলাদেশ সরকার, বিচার বিভাগ, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোর প্রতি সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে আমার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এটি অন্তত বলতে পারি- ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় যতই দাবি আর অনুনয় বিনয় করা হোক না কেন তা সবসময়েই উপেক্ষিতই হয়ে থাকবে ‘ইসলামী রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ নামে দেশটিতে ।

# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *