ঢাকা: ভারতে পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর পরেই বাংলাদেশ থেকে যারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী ছিলো সে দেশে, তাদের হাড় কাঁপুনি শুরু হয়ে গেছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারিতে দ্রুত ভারত ত্যাগ করছে তারা। ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট ম্যাথড অবলম্বন করছেন শুভেন্দু অধিকারী।

অনুপ্রবেশকারীদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, “ভাগো, ভাগো, জলদি ভাগো, না হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। ওরা জামাই নয়, যারা অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক চলে যাওয়া উচিত। বাংলাদেশীদের ফেরত নিয়ে নেওয়া উচিত”।

তিনি পুলিশকেও নির্দেশ দেন, “বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী দের কোর্টে পাঠানোর দরকার নেই, আইনে নেই সরাসরি পুলিশ নেবে। বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হবে। বিএসএফের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যে চুক্তি আছে তা মেনে চলা হবে। আমাদের জেলে কয়েক মাস রেখে আমাদের চাল আপনার আমাদের ডাল আপনার কাপড় ওদেরকে দেবো কেন? এতে ভারতীয়দের ক্ষতি হচ্ছে রাজ্যের ক্ষতি হচ্ছে”।

সেই সঙ্গে শুভেন্দু আগের তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে বলেন, “আইন ছিল, ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থে ব্যবহার হয়নি। আমরা ভোট ব্যাংকের বাইরে গিয়ে দেশের সাথে রাজ্যের স্বার্থে এই আইন কার্যকর করলাম। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য আপনারা আমাকে সমর্থন করেছেন, আইনের শাসন পাবে শাসকের আইন চলবে না”।

উল্লেখযোগ্য যে, গত সোমবার থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের হাকিমপুর চেকপোস্টে দেশে ফেরার জন্য সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের বিশাল ভিড় ও জটলা দেখা গিয়েছে।

সেই নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা প্রশ্ন করতেই  শুভেন্দু বলেন, “জলদি জলদি ভাগো। হাকিমপুরের ব্যাপারটা আমি টিভিতে দেখলাম। আমি শুধু একটাই কথা বলব, তাড়াতাড়ি পালাও, তাড়াতাড়ি পালাও। আমাদের দেশের মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ভাগ আমরা ওদের কেন দিতে যাব?”

মূলত ভারতবিরোধীদের মুখে দিনরাত ভারতের গালাগাল শুনবেন। কিন্তু সেই ভারতে গিয়েই তারা পড়ে থাকে।

নতুন সরকারের কড়া পদক্ষেপের পর থেকেই সীমান্তে পোঁটলা-পুঁটলি নিয়ে বাংলাদেশিদের হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে গেছে।

এর আগেও পশ্চিমবঙ্গে যখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চলছিল, তখনও এইরকম ছবি দেখা গিয়েছিল সীমান্তে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *