ঢাকা: আদ- দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে- একই ওয়ার্ডে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও হাসপাতালে থাকা অনেক রোগী এবং স্বজনরা বলছে- আরও অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু সংখ্যা লুকোনো হচ্ছে।

তবে এই ৬ শিশুর তো মৃত্যু হয়েছে!? এদের প্রত্যেকের বয়স ছিল এক কিংবা দুই দিন। কেন মারা গেল এরা?

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা থাকায় বাচ্চাদের মায়েদের অনুরোধে এসি বন্ধ রাখায় ভেন্টিলেশনের অভাবে, মানে দম বন্ধ হয়ে বাচ্চারা মারা গিয়েছে।

এদিকে অনেকেই বলছে সেখানে গ্যাস লিকেজের কারণে বাচ্চাগুলো মারা গেছে।

তবে হাসপাতালের লোকজনের চাইতে নিশ্চয়ই সিস্টেমে কীভাবে বাচ্চা ভালো থাকবে তা মায়েরা জানবেন না। আর মায়েদের ওপর মিথ্যা দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে, যার কোনো যুক্তি নেই।

ওঁরা হাসপাতালে কাজ করেন। এটা তাঁদের চাকরি। মায়েরা অনুরোধ করলো, আর ওমনি তাঁরা এসি বন্ধ করে দিলেন? তাঁরা কি জানেন না এতে ভেন্টিলেশনের অভাবে বাচ্চারা মরে যেতে পারে? এই জ্ঞান না থাকলে তাহলে তাদের হাসপাতালে রাখা হয়েছে কেন?

যে মায়েরা তাঁদের বাচ্চাকে হারিয়েছে; এখন এই হাসপাতাল পারলে দোষ ওই মায়েদের দিয়ে দিতে চাইছে! জগতের আর কোন দেশে এই ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ওই হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা করা হতো। ওখানে চিকিৎসা দেবার লাইসেন্সই বাতিল করে দেয়া হতো।

অথচ দেখবেন, এই হাসপাতাল দিব্যি চলছে।

আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এতকিছু যখন জানেন মন্ত্রীমশাই, তাহলে আর দেরি কেন? ইমিডিয়েট ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতাও কি এরা হারিয়েছে?

নাকি এখন আবার কর্তৃপক্ষের সাথে তালমিল করে, ভয় দেখিয়ে সেখান থেকেও মন্ত্রী আমলারা টাকা লুটার ধান্দা করছে? এইতো চলে!

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে। তাদের অবহেলার কারণে ছয়টি প্রাণ ঝরে গেছে। এসির সঙ্গে অক্সিজেন সাপোর্টের একটি সংযোগ ছিল। সেখানে তারা এসি বন্ধ করে দেয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেটি চালু করা হয়নি। এদিকে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ছয়টি শিশু মারা গেছে।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) সেখানে গেছেন। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যতটুকু শাস্তির প্রয়োজন, আমরা তা নিশ্চিত করবো। পাশাপাশি এ ঘটনার মাধ্যমে অন্যদের জন্যও একটি বার্তা দেওয়া হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব ক্লিনিকের লাইসেন্স নেই, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে চিকিৎসক ছাড়া নার্স দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করানো হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করা হয়েছে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *