ঢাকা: এই দেশে নারী মানেই ধর্ষিত। নারী হয়ে জন্ম নেয়া মানেই ধরে নিতে হবে তাকে ধর্ষিতা হতেই হবে। সে বাবার কাছে হোক, ভাইয়ের কাছে হোক, হুজুরের কাছে হোক যার কাছেই হোক।
মানসিক ভারসাম্যহীন নারী যারা আছেন তারা তো আর বলতে পারবেন না! তাই তাদেরকেও টার্গেট করা হচ্ছে। আর বলতে পারলেও কী? এই দেশে তো আইন নেই।
একের পর এক নারী নির্যাতনে যখন ক্ষোভ ঝরছে মানুষের মনে তখন সামনে এলো মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে হওয়া সেই বর্বরতার একদিন পর মারা গেছেন দুই সন্তানের সেই জননী। চার ঘণ্টার একটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে পুরো ঘটনা। জড়িতদের তালিকায় এক অটোরিকশা চালকসহ কয়েকজন যুবক।
গত ৩ মে মধ্যরাতের ঘটনা। যাত্রাবাড়ীর ধলপুরের গলিপথ। এক নারীকে অটোরিকশা থেকে নামাচ্ছিলেন চালক, সঙ্গে আরো দুই যুবক। এরপর নারীকে নেয়া হয় পাশের একটি ভবনের নিচতলায়।
একটি সিসিটিভি ফুটেজে প্রমাণ পাওয়া যায় রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে তাকে। তবে ঘটনাটি কোথাও দেখেছেন এখন অবধি? কারণ এইসব চাপা রাখা হয়।
রাজধানীর অলিতে গলিতে মানসিক ভারসাম্যহীনদের ধর্ষণ করছে পুরুষেরা। এইসবের বিচার আছে?
নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ছোট ভাই জানান, তার বোন মানসিক ভারসাম্যহীন। দুই কন্যা সন্তানের এই মা হবিগঞ্জের গ্রামের বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিলেন ২০ দিন ধরে।
ছোট ভাই বলেন, প্রায় ছয় সাত মাস ধরে আমার বোন মানসিকভাবে অসুস্থ। তারপর আমরা ওকে আটকে রাখছি অনেকদিন। তারপর হঠাৎ একদিন বের হয়ে গেছে রাতে, আমরা জানি না।
তারপর অনেক খোঁজাখুঁজি করছি ১৫ থেকে ২০ দিন কিংবা ২৫ দিনের মতো খোঁজাখুঁজি করছি। তারপর হঠাৎ একদিন শুনি যে ও নাকি মারা গেছে। আর কোনো বোন যেন এরকম একটা পরিস্থিতি না পড়ে। আমরা সঠিক বিচার চাই।
জানা গেছে, গত ৫ মে একটি অপমৃত্যুর মামলা করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এর ১৭ দিন পর ২২ মে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করে নির্যাতিতের ভাই। সিসিক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে অন্যান্য আসামিরও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
