ঢাকা: বাটপার চিটার হলে হাসনাত আর আসিফের মতো হতে হবে। কারণ ওদের বাটপারি চিটারি মানুষ ধরতে পারে না বরং অ্যাপ্রেশিয়েট বা প্রশংসা করে। তাঁদের কথাবার্তা এতটাই সুমিষ্ট এবং চতুর যে যেকোনো মানুষ তাদের পাল্লায় পড়ে আরেকবার জুলাই ঘটিয়ে দিতে পারে।
রাজস্ব তহবিল থেকে আসিফ আর হাসনাত ২৫ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। তারপর এক খেজুরে গল্প বানিয়ে ডিজিটাল বোর্ডে ক্লাস করিয়ে মিডিল ক্লাসের, আপার ক্লাসের ফ্যান বনে গিয়েছেন হাসনাত।
সবাই বলাবলি করছে, এইরকম তো আগে কখনো ঘটেনি। এইভাবে জবাবদিহি কি আগে কেউ দিয়েছে?
৫ আগস্টের পরে আসিফ উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের তহবিল থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। স্বাক্ষী জেলা প্রশাসক। অন্য দিকে হাসনাত নিয়েছিলেন ১০ কোটি টাকা।
এই ২৫ কোটি টাকা কে কোথায় খরচ করেছে তার কোন কি ক্লাস নিয়েছেন দুইজনে?
কিছু টাকার খেজুর দিয়ে ২৫ কোটি টাকা লাপাত্তা করে ফেলেছেন।
আর বলছেন, এমন খেজুর কি আগে কোনো সরকার দিতো? তারাই খেয়ে ফেলতো। অথচ এই বিষয়গুলো আওয়ামী লীগের পুরনো ব্যাপার। এমন খবর আমরা আগেও করেছি।
খেঁজুর পেয়ে আমরা বাঙালিরা নতুন করে খুশি। বাবাগো বাবা! ভাবা যায় হাসনাত কতোটা সৎ। তিনি খেজুরের বন্টন হিসাব টু হিসাব দেখিয়ে দিলেন!
শাক দিয়ে মাছ ঢেকে বাটপারি করেও তারা আজ হিরো।
এদিকে, আসিফ মাহমুদ লাইভে এসে হিসাব নিকাশের খাতা খুলে বসছেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন —- আজকে আবার আপনাদের সামনে আসতে হলো- ইতিমধ্যে আপনারা বিভিন্ন শিরোনামে দেখছেন ২৫ কোটি টাকা হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং আসিফ মাহমুদ নিয়ে গেছে।
তার মধ্য ১৫ কোটি টাকা নিয়েছে আসিফ মাহমুদ, আর ১০ কোটি নিয়ে গেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তো শিরোনাম দেখে আপনারা একটু প্যারা খাইতে পারেন। ৯ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আর আমার এক ধরনের মানহানি করা হলো, এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে।
এদের এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে, সরকার কিভাবে চালাতে হয়, মন্ত্রণালয় জেলা পরিষদ সম্পর্কে কোন বেসিক ধারণা নেই। বরাদ্দ সম্পর্কে কোন ধারণা নাই, রাজস্ব খাত কোনটা, বিশেষ বরাদ্দ কোনটা। তাদের নলেজের জন্য প্রতিদিন আমাদেরকে এরকম ধরনের জিনিস ফেস করতে হচ্ছে, টাইম নষ্ট হচ্ছে, মানহানি হচ্ছে।।
তো আমি আহ্বান জানাবো জেলা পরিষদের যিনি প্রশাসক আছেন আপনি বক্তব্যটা স্পষ্ট করবেন। যদি না করেন তাহলে আমাদেরকে আইনি ব্যবস্থা দিকে যেতে হবে।
কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন—জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার এমন মন্তব্য প্রকাশের পর তাঁরা অত্যন্ত ক্ষিপ্ত।
শনিবার (৩০ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন:
কুমিল্লা জেলা পরিষদের সভার কার্যবিবরণীতেই দেখা যায় যে বিশেষ বরাদ্দের অর্থ সোলার লাইট স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ক্রয়, মসজিদ সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে এই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ বা ব্যয়ের কোনো সুযোগ ছিল না।
অন্যদিকে একই বিষয়ে সরাসরি ব্যাখ্যা চান হাসনাত আব্দুল্লাহ।
জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে তার ফোনালাপের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
ফোনালাপে হাসনাত আব্দুল্লাহ জানতে চান, তার বিরুদ্ধে ‘টাকা খাওয়ার’ অভিযোগ করা হয়েছে কি না। জবাবে মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, রাজস্ব খাতসহ সব খাত মিলিয়ে হাসনাতের এলাকায় ১০ কোটি টাকা গেছে। তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছেন। তার উপজেলায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে, আর আসিফ মাহমুদের এলাকায় ১৫ কোটি টাকা গেছে।
তিনি আরও বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ টাকা খেয়েছেন, সেটা তিনি বলেননি। তিনি বলেছেন, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তাদের দুই উপজেলায় মোট ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হয়তো তার বক্তব্য গণমাধ্যমে সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।
হাসনাত আব্দুল্লাহও দাবি করেন, আলোচিত অর্থ তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
বিষয়টি নিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, বরাদ্দ দেওয়া এবং অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক তার বক্তব্য আরও পরিষ্কার করবেন। অন্যথায় বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায়ও যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
