ঢাকা: নারী, শিশুর ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ ও খুনের হার বেড়েই চলেছে। এর শেষ পরিণতি যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা একটু চিন্তা করলেই মনে হচ্ছে বুকে চাপ দিয়ে ধরছে ব্যথা!

এত এত ধর্ষণ, নারী নির্যাতন যে হচ্ছে এখন পর্যন্ত কয়টা ধর্ষণের বিচার দেখেছে দেশ? এমন একটা বিচারের কথা বলতে পারবে? হয়নি তো বলবে কিভাবে? অথচ যাদের ধর্ষণ করা হয়েছে সেই তালিকা গুণে শেষ করতে পারবেন না।

করোনা কি ছড়িয়েছিলো, ধর্ষণ এইসব ভাইরাসের চাইতেও ভয়াবহ। ভাইরাস একসময় চলে যায়, কিন্তু ধর্ষক?

দেশে ধর্ষণ আর শিশু নির্যাতন বেড়েই চলেছে। এর শেষ কোথায়? বাংলাদেশে জন্ম নেওয়াটাই কি ভুল ছিল?

আর কত শিশু, আর কত নারী নির্যাতনের শিকার হলে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে?
ক্ষমতায় আসার আগে সবাই প্রতিশ্রুতির পাহাড় গড়ে, কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই কথাগুলো যেন হারিয়ে যায়।

সাধারণ মানুষ আজ আর কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশ্বাস করতে পারে না।
একজন নেত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা, আর এখন একজন নেতা আছেন শুধু কার্ডের পরিচয়ে।

অথচ কোনো সরকার ধর্ষণ নিঃশেষ করতে পারেনি। এই দেশের মা-বোনদের নিরাপত্তার চেয়ে যেন রাস্তায় থাকা কুকুরের নিরাপত্তাও বেশি গুরুত্ব পায়।

বর্তমান ক্ষমতাসীনরা যে কী ভেবে বসে আছে কে জানে?

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা চলতি বছরের মে মাসে আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। এবং দিনদিন বেড়েই চলেছে।

সংস্থাটির প্রকাশিত জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা মনিটরিং প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে মে- এই এক মাসের ব্যবধানে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা ৩১২ থেকে বেড়ে ৩২৬-এ পৌঁছেছে।

বিশেষ করে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, যৌন হয়রানি এবং আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে তারা।

আজ, রবিবার (৩১ মে) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিলে ধর্ষণের ঘটনা ৫৪টি, মে মাসে সেটা বেড়ে ৭৮-এ দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

আর এই একই সময়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ২ থেকে বেড়ে ৬ হয়েছে। যৌন হয়রানির ঘটনা ১৭ থেকে বেড়ে ১৮ হয়েছে।

এমএসএফের মতে, এসব ঘটনা সমাজে নারীদের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *