ব্রাহ্মণবাড়িয়া: এখন হয়তো সত্যি কথা বললে অনেকের খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু গোঁড়ার কথা না লিখে আমরা গাছের আগার দোষ দিয়ে কী করবো বলুন?
আপনি মানেন বা না মানেন, আজকের এই ‘তৌহিদি জনতা’ নামক বিষফোঁড়াকে একটু একটু করে তিলে তিলে বড় করে রেখে গেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কওমী জননী বলা হয় তাঁকে ।
তিনি ভেবেছিলেন শ্যামও রাখবেন, কুলও রাখবেন। কিন্তু কোনোটাই হয়নি। বরং কাঠমোল্লারা সেই তাঁর বিরুদ্ধেই লেগেছে। সাপকে দুধকলা যতোই দাও ছোবল সে মারবেই, সেটাই হয়েছে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে।
জানি এই কথাগুলো বললে আওয়ামী লীগাররা খুব অস্বস্তিতে ভোগে, এই চরম সত্যটা হজম করতে তাদের ভীষণ কষ্ট হয়। কিন্তু সত্যটা স্বীকার করলে নিজের ভুলগুলো শোধরানো যায়।
শেখ হাসিনা যেমন দেশের উন্নয়ন করেছেন, মানুষের কথা ভেবেছেন তেমনি রিলিজিয়াস র্যাডিকালিজমকে পেট্রোনাইজ করেছেন সেটা নিয়ে বিশাল অ্যাকাডেমিক রিসার্চ সম্ভব।
মুখে সেকুলারিজমের কথা বললেও বাস্তবে এবং মাঠপর্যায়ে সেকুলারিজমের সিকিআনাও তাঁরা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা বারংবার আঁতাত আর পৃষ্ঠপোষকতা করে গেছে সালাফি-ওয়াহাবি, কওমী মোল্লাদের সাথে। কেন করতেই হবে বলুন তো এগুলো?
এই পৃষ্ঠপোষকতা এতটাই ভয়াবহ আর বড় পরিসরে ছিল যে বাংলাদেশকে এর মাশুল দিয়ে যেতে হবে বহুবছর। এর থেকে বের হবার কোনো উপায় নেই। আওয়ামী লীগকে ফিরতে হলে ত্রুটিগুলো বিবেচনা করতে হবে আগে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটা স্কুলে কওমী মোল্লারা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী জোরপূর্বক বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়াও গত দুইবছর ধরে সারাদেশে তারা যে লেভেলে তান্ডবলীলা চালিয়েছে তা হওয়ারই কথা ছিল।
ভাষাটা এভাবে না বললে আসলে তাদের চরিত্রটা ঠিকভাবে উন্মোচন করা হয়না। তাই বলছি আরকি।
যারা এইসব বন্ধ করছে, তাণ্ডব করছে তারা কিন্তু কখনো মেইনস্ট্রিমে ছিল না, সবসময় চিপাচাপা থেকেই আওয়াজ দিতো মিউ মিউ করে। তারা হয়েছে এখন শের।
আর তাদেরকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে মেইনস্ট্রিমে এনেছেন হাসিনা। পরিস্থিতি এখন এমন হয়েছে যে আজকে রাষ্ট্রের যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত ওদের সম্মতি ছাড়া পাশ হয় না।
তাদের ছাড়া গতি নেই। তাদেরকে ভয় পায় সরকারও।
শিক্ষা ব্যবস্থার বারোটা বাজিয়ে, মাদ্রাসা নামক শয়তানি শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রচার প্রসার করে একটা অশিক্ষিত, অসভ্য, গণ্ডমূর্খ, নারীবিদ্বেষী, টক্সিক জেনারেশন রেখে গেছেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
পোস্টের শুরুতে পিয়া লেখেন, ‘যেখানে যখন যা বলা উচিত না, আমি প্রায়ই সেটাই বলে ফেলি। আর সেই কারণেই অনেক ঝামেলাতেও পড়তে হয়।’
এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-র প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দেশের শিল্প-সংস্কৃতি রক্ষার বিষয়টি সামনে আনেন।
পিয়া লেখেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস বন্ধ হয়ে গেল। যারা জুলাইয়ে মাঠে-ঘাটে নেমে দেশ উদ্ধার করতে চলে এসেছিলেন, বিশেষ করে কিছু মিডিয়াকর্মী এবং সেইসব মানুষ, যারা সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী একেকবার একেক পক্ষের অবস্থান নেন, তারা কি এখন এগিয়ে এসে নিজেদের সিনেমা, নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে পারবেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশ উদ্ধার করার কথা অনেক শুনেছি। এখন দেখার বিষয়, নিজেদের শিল্প, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল অঙ্গন বাঁচানোর সময় তারা কতটা ভূমিকা রাখেন। ধৈর্য নিয়ে দেখছি। সময়ই উত্তর দেবে।’
