ঢাকা: ধর্ষণের মত জঘন্য, ভয়ঙ্কর, পাশবিক বিষয় দেশে প্রতিদিন ঘটেই চলেছে। ঘটনার পর ঘটনা ঘটছে। প্রতি মিনিটে ধর্ষণ হচ্ছে বাংলাদেশে।
যখন ঘটে তখনি তোলপাড় শুরু হয়ে যায় মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়াসহ সবখানে। কেউ বিচার চাইতে আসেন, মোমবাতি মিছিল করেন, কেউ আবার করেন ভিক্টিম ব্লেমিং অথবা কেউ আওড়ান সামাজিক মূল্যবোধের বুলি।
ভুক্তভোগীর মা বাবাকে গিয়ে সান্ত্বনা দেন, অভিভাবকের হাতে দুটো টাকাও গুঁজে দেন- যদি ধামাচাপা পড়ে। মন্ত্রীরা তো থাকেন এই তালেই। আর যদি ধর্ষক পার্টির হয় তাহলে তো আরো আগে টাকা। শাস্তির গুষ্টির পিণ্ডি চটকালেও শাস্তি বেরোবে না তখন।
এত প্রতিবাদ হয়, দিনশেষে না ধর্ষণ থামে, না বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা। একের পর এক যৌন নির্যাতন, ধর্ষণের পর হত্যা, মৃত্যু-এই পাশবিকতা থেকে কেউই বাদ যাচ্ছেন না।
নারী, শিশু কেউই নিজ বাড়িতে, খেলার মাঠে, রাস্তাঘাটে, কর্মক্ষেত্রে, হাসপাতাল, কবরেও নিরাপদ নন।
প্রতিবছর এই অমানবিকতা শুরু বেড়েই চলেছে।
কিন্তু কেন এই ভয়াবহ মহোৎসব থামছে না?
অনেকদিন ধরে দেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যে ধর্ম পালনের নামে ভণ্ড সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম মূল কারণ।
কোরান পড়ানোর উছিলায় মাদ্রাসা, মসজিদে ধর্ষণ করছেন হুজুররা। অথচ বাইরে তাদের লেবাস দেখলে কেউ বলবে তারা যে ধর্ষক?
ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের খবর যত বেশি পাওয়া যায় সে তুলনায় অপরাধীর শাস্তির দৃষ্টান্ত অত্যন্ত কম।
ধর্ষণকারীরা এটুকু জেনেই গেছে যে, ধর্ষণ করলে তাদের তেমন কোনো সমস্যা হবে না৷ প্রথম প্রথম একটু থানা পুলিশ হৈচৈ হবে শেষে কিছুই হবে না।
অথচ এইসব নিয়ে হুজুরদের, কাঠমোল্লাদের কোনো কথা শুনবেন না। শুনবেন তারা ওমুক জায়গায় গানের আসরে হামলা চালিয়েছে, ওমুক ছবি বন্ধ করে দিয়েছে। জামাত শিবির কাজ করছে এর পেছনে।
নাম দিয়েছে তৌহিদি জনতা।
ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ও ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি নিয়ে ফেসবুকে এক বিস্ফোরক পোস্ট দিয়েছেন জনপ্রিয় নির্মাতা শিহাব শাহীন।
দেশের সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান টেনে তিনি মূলত একটি বিশেষ গোষ্ঠীর দিকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন।
শিহাব শাহীন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “শুধু এক মাসে ১১৩ জন বলাৎকার, কিন্তু ১১৩ জন বলাৎকারীর ভেতরে একজনও বাউল নাই, পীর নাই, মাজারপন্থী, লালন ভক্ত, শিল্পী, নির্মাতা, কৃষক, জেলে, সংখ্যালঘু নাই! আছে শুধু…”
আছে শুধু….? কারা? অর্থাৎ কাঠমোল্লা, মুসলমান। এটাই তিনি বলতে চেয়েছেন।
মূলত উগ্রবাদী কওমী মাদ্রাসা ইউনুসিয়ার জঙ্গীদের হামলার মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বনলতা এক্সপ্রেসের প্রদর্শনী হলোনা। এরপরেই পোস্টটি তিনি দেন।
